সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সোমবার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২০ দলীয় জোটকে সমাবেশ করতে না দেয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে তিনি জানান।

এরইমধ্যে দেশের কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধ সমর্থকদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে।

অবরোধের মুখে দূরপাল্লার সব যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাজধানীর বড় দু'টি টার্মিনাল গাবতলি ও সায়েদাবাদ থেকে এখন পর্যন্ত কোন দূরপাল্লার যানবাহন ছেড়ে যায়নি।

জানা যায়, রাজধানীর ডেমরার বাঁশেরপুলে মাতুয়াইল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে বিএনপি কর্মীরা।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কার্যালয়টি আগুন ধরিয়ে দিয়ে সেটা সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এদিকে ২০ দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর পল্লবীতে রাস্তা অবরোধ করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার সকাল ৮টায় পল্লবীর ১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে তারা এ অবোরোধ করে। এসময় তারা রাস্তায় আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে।

এছাড়াও রমনা থানা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত মগবাজার রেললাইন অবরোধ করে রাখে।

অবরোধের এক পর্যায়ে পুলিশ বাঁধা দিলে ধাওয়া পাল্ট ধাওয়া চলে। থানা নায়েবে আমীর ড.হাবিবুর রহমান ওই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন।

এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন থানা সেক্রেটারী জিল্লুর রহমান, থানা কর্মপরিষদ সদস্য ইউসূফ আলী মোল্লা, আতাউর রহমান সরকার, জামায়াত নেতা মোশারফ হোসাইন, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ২০ দলীয় জোট।

খুলনা:

অনির্দিষ্টকালের অবরোধের প্রথম দিন মঙ্গলবার সকালে খুলনার মিয়া পাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি।

মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফের মিয়াপাড়ায় গিয়ে শেষ হয়।

পরে মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে মিয়াপাড়ায় এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে খুলনা থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটের বাস।

ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ছাড়া কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। নগরীতে জন সমাগমও কম রয়েছে।

সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরায় অবরোধের কারনে নাশকতার আশঙ্কায় জামায়াত-বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীসহ ৫০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতভর জেলাব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের তথ্য কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

এদিকে, দেশব্যাপী বিএনপির ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের প্রথম দিনে মঙ্গলবার সাতক্ষীরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বরিশাল:

অবরোধের কারণে দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকলেও অভ্যন্তরীণ রুটে সীমিত সংখ্যক বাস চলাচল করছে। জেলার কোথাও কোনো মিছিল মিটিং ও সমাবেশের খবর পাওয়া যায়নি।

লঞ্চে হামলা চালিয়ে স্টাফদের আহত করার প্রতিবাদে জেলার তিনটি নৌ-রুটে মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন ও নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও মজুচৌধুরীরহাট রুটে ধর্মঘট চলছে।

সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক একিন আলী মাস্টার জানান, বরিশাল-মজুচৌধুরীরহাট নৌরুটের লঞ্চ এমভি উপবনে ২ জানুয়ারি রাতে ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুর্বৃত্তরা লঞ্চের কেরানি নাসিমুল হাসান চৌধুরীকে মারধর করে ১৭ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়।

এদের মধ্যে রায়হান নামে একজনকে চিহ্নিত করে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় শনিবার একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করেনি। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদরে শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার থেকে বরিশালের হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও মজুচৌধুরীরহাট রুটে ধর্মঘট চলছে।

মানিকগঞ্জ:

নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সৃষ্টির আশঙ্কায় মানিকগঞ্জের ৪ উপজেলা থেকে বিএনপির ৭ কর্মী।

সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক কর্মীদের মধ্যে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ৪ জন, হরিরামপুর, শিবালয় ও সাটুরিয়ায় ১ জন করে রয়েছে।

মেহেরপুর:

মেহেরপুর গাংনী থানা পুলিশ ৮ জনকে সদর থানা পুলিশ ৪ জনকে ও মুজিবনগর থানা পুলিশ ১ জনকে আটক করে।

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, ২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের সময় নাশকতার আশঙ্কায় কার্য বিধির ১৫১ ধারায় আটক দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

কক্সবাজার:

কক্সবাজারে জেলা পরিষদ প্রশাসকের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় হামলাকারীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে জেলা পরিষদ প্রশাসকসহ ৩ জন আহত হয়েছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি বখতিয়ার আহমেদ জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে খরুলিয়া বাজার এলাকায় কক্সবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসকের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা।

এসময় দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ, তার সহধর্মিনী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কানিজ ফাতেমা এবং আবদুল মান্নান আহত হন।

তাদেরকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বগুড়া:

২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধে বগুড়াসহ গোটা উত্তরাঞ্চল অচল হয়ে পড়েছে। উত্তরাঞ্চলের প্রবেশমুখ বগুড়ার উপর দিয়ে মঙ্গলবার ভোর থেকে কোনো যানবাচন চলাচল করছে না।

ফলে রাজধানীর সঙ্গে এ অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অবরোধের সমর্থনে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা ভোর থেকেই শহরের মাটিডালি বিমান মোড়ে বগুড়া-রংপুর মহাসকে অবস্থান নিয়েছে।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে বিএনপি, জামায়াত ও ছাত্রশিবির বিক্ষোভ করে। পরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম এবং জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হুসাইনসহ নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হয় বেগম জিয়ার আহ্বানে অনির্দিষ্টকাল অবরোধ চলবে। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

অবরোধের কারণে বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-নাটোর, বগুড়া-নওগাঁ, বগুড়া-রংপুর এবং বগুড়া-জয়পুরহাট মহাসড়কসহ এ অঞ্চলের কোনো সড়ক বা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কিম্বা অটোরিকশা চলছে না। শুধুমাত্র শহরের ভেতর ও শহরতলীতে কিছু রিকশা চলাচল করছে।

এদিকে, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও এখনো ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক বলে দাবি করেছেন বগুড়ার স্টেশন মাস্টার বেনজুরুল ইসলাম। তিনি জানান, সকাল থেকে নিয়ম অনুযায়ী সব ট্রেন বগুড়া ছেড়ে গেছে।

বগুড়া পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, অবরোধে এখন পর্যন্ত জেলা কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যেকোনো ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা মোকাবেলায় নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

এআর/এসএইচ