ঝিনাইদহে পুলিশ কর্তৃক কলেজ ছাত্র সোহানূর রহমানকে গ্রেপ্তারের ১০ দিন পর গভীর রাতে গুলি চালিয়ে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

বুধবার এক যৌথ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত এই প্রতিবাদ জানায়।

শিবির নেতারা বলেন, আবারো নরঘাতকতার নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করেছে পুলিশ। গত ১০ই এপ্রিল কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের পাশে ঈশ্বরবা-জামতলা নামক স্থানে একটি দোকানে বসে ছিল একাদশ শ্রেণীর ছাত্র সোহানুর। এ সময় কালীগঞ্জ শহর থেকে একটি ইজিবাইকে করে চারজন লোক এসে নিজেদের পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেয়।

তারা অস্ত্রের মুখে সোহানুরকে তুলে নিয়ে কালীগঞ্জের দিকে চলে যায়। উপস্থিত লোকজন বাধা দিতে গেলে তাদের অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় জনতা অপহরণকারীদের মধ্যে দুইজনকে কালীগঞ্জ থানার এসআই বলে চিহ্নিত করে।

পরে তার পরিবারের লোকজন থানায় দেখা করলে তারা সোহানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরিবারের থেকে তার সন্ধানের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন ও বিবৃতি প্রদান করা হয়।

কিন্তু পুলিশ সরকারের নির্দেশে তার আটকের বিষয়টি বেআইনি ভাবে গোপন রেখে ১০ দিন পর রাতের আঁধারে গুপ্তঘাতকের মত হত্যা করে আজ চুয়াডাঙ্গায় এক মাঠে ফেলে রাখে। সম্প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আবু হুরায়রা, শিবির নেতা আবু যর গিফরী, শামীম হোসেনকে একই কায়দায় হত্যা করা হয়।

একের পর এক মেধাবী ছাত্রকে হত্যাকরে দেশকে মেধা শূন্য করার পায়তারা করছে সরকার। সম্প্রতি একই ভাবে ঝিনাইদহে পুলিশ পরিচয়ে ২৭ জনকে অপহরণ করার পর সেখানে লাশ পাওয়া গেছে ২৩ জনের। শুধু মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ২৪ জনকে একই ভাবে খুন করেছে পুলিশ। সরকার পরিকল্পিত গণহত্যার মাধ্যমে ঝিনাইদহকে এক মৃত্যুর উপত্যকাতে পরিণত করেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরীহ ছাত্রদের পরিকল্পিত ভাবে টার্গেট কিলিং কোন পুলিশের কাজ হতে পারেনা। বরং তা গুপ্তঘাতকের কাজ। একের পর এক নৃশংস হত্যাকান্ডের কারণে পুলিশকে অবৈধ সরকারের গুপ্তঘাতক বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করছে জনগণ। এগুলো পরিকল্পিত গণহত্যা। এমন বর্বর হত্যাকান্ডের জন্য আমরা সরকারের প্রতি ধিক্কার জানাই।

কিন্তু অবৈধ সরকার তার দায়িত্ববোধ ও মানবিকতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে নৃশংস হত্যাযজ্ঞা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হত্যাকান্ড সরকারের নির্দেশ ছাড়া হতে পারে না বলে জনগণ মনে করে।

সুতরাং পুলিশ কর্তৃক প্রতিটি হত্যাকান্ডের দায় সরকারকেই নিতে হবে। সময়ের ব্যবধানে সরকারের সাথে সাথে পুলিশ নামধারী ঘাতকদেরকেও বিচারের সম্মুখ্যিন হতে হবে।

অবিলম্বে এই পরিকল্পিত গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কলেজ ছাত্র সোহানের হত্যাকারী পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে আমরা দেশের বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের এই রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ডের বিরোদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

সেই সাথে জাতিসংঘসহ সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনকে এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করার আহবান জানাচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং অগণতান্ত্রিক ও বেআইনি সকল আচরণ পরিহার করতে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

এমবি