আইজিপি জনাব একেএম শহিদুল হক রংপুর জেলার মিঠাপুকুর বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় ২০ দলীয় জোটকে লক্ষ্য করে যে অন্যায়, অযৌক্তিক ও অসাংবিধানিক, বেআইনী বক্তব্য প্রদান করেছেন তার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

আজ ১৬ জানুয়ারী এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আইজিপি যে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন সেখানে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব রেজাউল করীম রাজু, র‌্যাবের মহাপরিচালক জনাব বেনজির আহমেদ, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জনাব দেলাওয়ার বখত, রংপুরের ডিআইজি জনাব হুমায়ুন কবির, জেলা প্রশাসক জনাব ফরিদ আহমেদ ও এসপি জনাব আবদুর রাজ্জাকও বক্তব্য প্রদান করেন।

রাজনৈতিক নেতৃবেৃন্দের সাথে রাষ্ট্রীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাগণ বক্তব্য প্রদান করে দেশের আইন ও সংবিধান লংঘন করেছেন। প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসাবে তারা রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে এক মঞ্চে শামীল হয়ে এ ধরনের বেআইনী বক্তব্য প্রদান করতে পারেন না।

রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে কোন দলের বিশেষ এজেণ্ডা বাস্তবায়নের কোন এখতিয়ার সরকারী কর্মকর্তাদের নেই। তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য রেখে নিজেদের নিরপেক্ষতা হারিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তাদের এই ভূমিকায় দেশের জনগণ বিস্মিত, বিক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। 

গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থাকবে, ভিন্নমত থাকবে এবং জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনও থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী-কর্মকর্তাগণ জাতির সেবক হিসেবে তারা কোন রাজনৈতিক দলের বা আন্দোলনের সমালোচনা করতে পারেন না।

তাদেরকে রাজনীতি এবং বিতর্কের উর্দ্ধে থেকে প্রজাতন্ত্রের সংবিধানে প্রদত্ত পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হবে আইনের আওতায় থেকে। তারা যদি রাজনীতি করতে চান তাহলে তাদের অবশ্যই চাকুরী ছেড়ে দিয়ে এবং সরকারী পোশাক খুলে জনগণের কাতারে শামীল হয়ে যদি রাজনীতি করেন তাহলে তাতে আমাদের কোন আপত্তি থাকবে না।

তা না করে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা ও সরকারী পোশাক পরে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে ময়দানে বক্তব্য দিবেন এবং বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুলি করে হত্যা করবেন এবং সাধারণ মানুষের বাড়ি-ঘর বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করে দিবেন, লুটপাট করবেন, মানুষ গুম করবেন তা দেশের জনগণ কিছুতেই মেনে নিবে না। 

আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। আন্দোলন বানচালের জন্য সরকার দেশে নৈরাজ্য সৃষ্ট করছে। দেশের সংবিধান লংঘন করে বেআইনীভাবে সরকারী কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জুলুম-নির্যাতন চালানো এবং বিরোধীদলকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য আমি দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকে নিরপেক্ষভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রজাতন্ত্রের সেবক কর্মচারী-কর্মকর্তাদের প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি।”

এসএইচ