জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের দিন ছিল শুক্রবার। মুজাহিদের সঙ্গে পরিবারের সাক্ষাতের সময় বিভিন্ন বিষয়ের খোঁজ-খবর নিয়েছেন তিনি। বাদ যায়নি মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত দলের সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামানের বিষয়টি।
সাক্ষাতের পুরো ঘটনাটি লিখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আলী আহসান মুজাহিদের বড় ছেলে আলী আহমদ মাবরুর। নিচে তার স্ট্যাটাস দেয়া হল:
"আজ আব্বার সাথে আমাদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের দিন ছিল। তিনি মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় প্রতি মাসে একবার আমরা তাকে দেখার সুযোগ পাই। সকাল থেকে খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম, তিনি কেমন আছেন, তার মন মানসিকতার কি অবস্থা। বিশেষ করে কামারুজ্জামান চাচার এমন রায়ের পরে তাকে কেমন দেখবো তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তাও করছিলাম। গিয়ে তার স্বাভাবিক হাসিমুখই দেখলাম। আমরা যারা তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম, সকলের প্রাথমিক কুশলাদি তিনি স্বাভাবিকভাবেই নিলেন।
কিন্তু এরপরই যেন তার মুখের পর্দা সরে গেল। তারপর থেকেই আমি আমার বাবার হৃদয়ের হাহাকার শুনতে পাচ্ছিলাম। সেই ছাত্র সংগঠন থেকে আজ অবধি ছায়ার মত যে কামারুজ্জামান তার পাশে ছিলেন, মিথ্যা অভিযোগে তার মৃত্যুদন্ডাদেশ যেন আব্বার হৃদয়কে ক্ষত বিক্ষত করছে বার বার। আব্বা সব কথার আগেই আমাকে বললেন, কামারুজ্জামানের কি খবর...লেটেস্ট অবস্থা বল..।
আমি একে একে সব বললাম। পরিবারের সাক্ষাৎ, আইনজীবিদের সাক্ষাৎ, রিভিউ পিটিশন নিয়ে প্রস্তুতি, সংগঠন ও পরিবারের জন্য কামারুজ্জামান চাচার মেসেজ...সব। আব্বা চুপচাপ সব শুনলেন। একটু পর আমি তাকিয়ে দেখি আমার বাবার চোখে পানি।
তিনি বললেন, কামারুজ্জামান ইসলামী আন্দোলনের পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়েছে। একটু থেমে আবারও বললেন, আমি দায়িত্বশীল হিসেবে বলছি, কামারুজ্জামান খুব ভাল ভাবে পরীক্ষায় পাশ করেছে। ওর মজলুম পরিবারও ধৈর্য্য আর কষ্টের ঈমানী পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়েছে।
আব্বা আমাকে বললেন, সম্ভব হলে কামারুজ্জামানকে আমার সালাম পৌছিও। আর আম্মাকে বললেন, নিয়মিত মিসেস কামারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ রাখতে। আর আমাদেরকে নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামান চাচার পরিবারের প্রতিও যত্ন নিতে বললেন। তাদের দায়িত্ব নিতে বললেন।
আজ সাক্ষাতের গোটা সময়টা জুড়েই ছিল কামারুজ্জামান চাচার বিষয়ে আলাপাদি। আমি জানি, আব্বার খুব কষ্ট হচ্ছে। বার বার স্মৃতির কাতরতায় ভাসছেন তিনি। মুক্ত অবস্থায় আমাদেরকে আগাগোড়াই তিনি বলতেন, কামারুজ্জামানকে সব সময় আমি আমার ডানপাশে রাখি। তাতে আমি ভরসা পাই।
আমি আজ আব্বার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারিনি বেশীক্ষণ। তার চোখের পানি আমার জন্য সহ্য করা খুব কঠিন। ইসলামী আন্দোলনের একজন সহকর্মীর জন্য আরেক জন সহকর্মীর যে দরদ তা নিয়ে কত কথাই না লেখা যায়।
আফসোস...আমাদের আদর্শিক বিরোধীরা যদি এই ভাতৃত্ব আর দরদের সন্ধান পেত...ওরা তো শুধু অন্ধের মত দোষই খুঁজে গেল আমাদের.।"
জেআই





