ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি জাকির হোসেন মিলন। রিমান্ডে নিয়ে পাশবিক অত্যাচার করে হত্যার করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে আগামী ১৮ মার্চ রোববার সারা দেশে কালো ব্যাজ ধারণ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
গত ৬ মার্চ মানববন্ধন থেকে আটকের পর ৩ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যু হয়।
মিলনের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিএনপির উদ্যোগে শুক্রবার বাদ জুমা দেশব্যাপী মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি ও তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে রিমান্ডে নিয়ে পাশবিক অত্যাচার করে হত্যা করা হয়েছে।
আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই দিন বিএনপির নেতা-কর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করবে বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে এ যাবৎ যারা সরকারের পরিকল্পিত হত্যা ও খুনের শিকার হয়েছেন তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আগামীকাল ১৬ মার্চ বিএনপির উদ্যোগে ঢাকাসহ দেশব্যাপী মসজিদে বাদ জুমা দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন-বিএনপি এখন দিশেহারা নয়, বেপরোয়াও। জনগণ তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলতে চাই-যাদের পায়ের নিচের মাটি থাকে না কেবল তারাই এমন কথা বলতে পারে।
আপনাদের মনের ইচ্ছা কী তা আমরা ভালো করেই বুঝি। আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলেই আপনি প্রলাপ বকছেন। গত পরশু দিনেও আওয়ামী লীগের পরম সখা এরশাদ সাহেব বলেছেন-আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোঠায়।’
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, রাজনীতি, গণমাধ্যম ও মানুষের বাক স্বাধীনতাকে হরণ করে সকল নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়ে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার রাষ্ট্রের সকল স্তম্ভ ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলেছে।
এখন পরিকল্পিত নৈরাজ্য তৈরির জন্য ওবায়দুল কাদের সাহেবরা উস্কানি দিচ্ছেন। ভয়ঙ্কর কিছু দুর্ঘটনা সৃষ্টির পরিকল্পনার চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ায় আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক বেহুঁশ হয়ে খাপছাড়া কথাবার্তা বলছেন। কারণ বিএনপির ওপর দায় চাপানোর যে দায়িত্বটি তাকে দেয়া হয়েছে সেটি পালনে অকার্যকর হওয়ায় তার চাকরি হারানোর ভয় তাকে পেয়ে বসেছে।
এর পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, পুলিশি নির্যাতনে গুরুতর আহতাবস্থায় চিকিৎসার অভাবে ছাত্রদল নেতা মিলন অকালে মারা যান।
ফখরুল জানান, মিলনকে গত ৬ মার্চ গ্রেফতার করে পুলিশ। পর দিন আদালতে হাজির করে রমনা থানা পুলিশ তাকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে মিলনকে রমনা থানায় রিমান্ডে নেয়া হয়। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়। টানা তিন দিন রিমান্ডে থাকার পর সোমবার ভোরে কারাগারে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
ছাত্রদল মিলনের বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুর থানার বাহাউদ্দিন মুন্সিকান্দি গ্রামে। গাজীপুরের টঙ্গি এলাকায় তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন।
এএস





