মতপ্রকাশের কারণে কোনো নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা করা সংবিধানের ওপরে আঘাত বলে মন্তব্য করে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধানে আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।

যে কেউ তার মত প্রকাশ করতেই পারেন। যারা আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তাদেরকে আমি ছাত্র বলবো না, তারা পশু। তারা (হত্যাকারীরা) পশুর মতো আচরণ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা আকরাম খাঁ হলে গণফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, আবরারের হত্যাকারীদের ছেলে বলব না। এরা জানোয়ার।

নিরীহ লোককে এরা পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। আমরা দেশের ছেলেদের পশুতে পরিণত করছি। এটা ভয়াবহ। দেশকে এই অবস্থা থেকে মুক্ত করতে হবে।

আবরার হত্যার বিচারের দাবি ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে দলের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দলের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, মুকাব্বির খান এমপি, মেসবাহ উদ্দীন আহমদ, আমীন আমহদ আনসারী, মোশতাক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আবরার হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ড. কামাল বলেন, যে কোন মানুষের ভিন্নমত থাকতেই পারে, তাই বলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে? এ কোন দেশ কোন সমাজে বাস করছি আমরা? রুগ্ন ও অসুস্থ রাজনীতির কারণে দেশে এক সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের মালিকানা জোরপূর্বক ছিনতাই করে ক্ষমতা দখলের কারণে আজ গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে যেতে বসেছে। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নেই। ভিন্নমত দমন, মিথ্যা মামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সভা-সমাবেশ করতে বাধা নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

নিবর্তনমূলক আইন করে সরকার জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করেছে। এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে।

শিক্ষাঙ্গনে এমন বর্বরতা বন্ধ করতে হবে। ড. কামাল বলেন, আবরার হত্যার তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি করতে হবে। যেখানে সাবেক বিচারপতি, সাবেক সচিব, সাবেক আইজিপিসহ অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা থাকবেন, যারা গভীর থেকে তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও আসল ঘটনা বের করে আনতে পারবেন।

এএস