আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে সারা দেশে একক প্রার্থী সোমবার পর্যন্ত চূড়ান্ত করতে পারেননি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বেশিরভাগ প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও কিছু পৌরসভায় তৃণমূলের সুপারিশে দুই থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর নাম রয়েছে। তাই ওইসব পৌরসভায় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দলটির মনোনয়ন বোর্ডকে। আজ সব পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে দলীয় সূত্র জানায়।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারা দেশের ২৩৬টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে একক মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সোমবার গণভবনে আওয়ামী লীগের ১৮ সদস্যের স্থানীয় সরকার/পৌরসভা নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক বসে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত চলে। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও স্থানীয় সরকার/পৌরসভা নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠকে মেয়র পদে দলীয় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। বৈঠকের ফাঁকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বোর্ড সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সাংবাদিকদের জানান, বেশিরভাগ পৌরসভায় দল মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। আজ মঙ্গলবারই সব পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
মনোনয়ন বোর্ডের আরেক সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান জানান, প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। আজ সন্ধ্যায় পুনরায় বৈঠকে বসে প্রার্থীদের অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি চূড়ান্ত শেষে তা পাঠানো হবে। সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, ত্যাগী এবং আদর্শবান নেতারাই দলীয় মনোনয়নে প্রাধান্য পাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকালের মধ্যেই সারা দেশ থেকে তৃণমূলের প্রস্তাবিত মেয়র পদে প্রার্থীর তালিকা কার্যালয়ে পৌঁছায়। এর মধ্যে ৩০ ভাগ পৌরসভায় মেয়র পদে একক, বাকিগুলোতে দুই বা ততধিক প্রার্থীর নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এমনকি অর্ধশতাধিক পৌরসভায় তিন থেকে ৬ জনের নামের তালিকা এসেছে। সব যাচাই-বাছাই করে বিকালের মধ্যেই তালিকা গণভবনে নিয়ে যান দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
বৃহস্পতিবারের মধ্যে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের তালিকা নির্বাচন কমিশনে দিতে হবে। মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মন্ত্রী-এমপি এবং জেলার নেতাদের হস্তক্ষেপেই অধিকাংশ পৌরসভায় প্রার্থী তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। এ নিয়ে একাধিক সদস্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সূত্র জানায়, যতই নাম পাঠাক না কেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গোপন দলীয় ও গোয়েন্দা জরিপই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বেশ ক’জন মন্ত্রী ও এমপি দলের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে নিজের স্ত্রী, বোন জামাই, শ্যালক কিংবা নিকটাত্মীয়দের নাম সুপারিশ ও তদ্বিরের বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।
বৈঠকে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও আমির হোসেন আমু ছাড়া মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, কাজী জাফরউল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ