অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনসহ দুর্নীতির মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া রায়কে প্রহসনমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। তার আইনগত সব অধিকার ক্ষুন্ন করে রাজনীতি থেকে তাকে চিরতরে বিদায় করতেই সরকারের চাপে আদালত এ রায় প্রদান করেছে বলে মনে করেন তিনি। খবর দৈনিক নয়া দিগন্ত।
মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কে চিকিৎসারত সাদেক হোসেন খোকা তার বাসায় নয়া দিগন্ত প্রতিনিধিকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ার এসব কথা জানান।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ও নিইয়র্ক সময় সোমবার রাতে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে তাকে ১৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ অনাদায়ে অর্থ জরিমানা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
সাদেক হোসেন খোকা বলেন, চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবার জন্য আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে প্রথমবার আমাকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয় হয়। পরবর্তী সময়ে আবারো আদালতের নির্দশনা নিয়েই আমি চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কে অবস্থান করছি। এটা সবার জানা। অথচ এ রায় ঘোষণার সময়; আজকে আমাকে পলাতক দেখানো হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
তিনি আরো বলেন, নিউইয়র্কে আমার ক্যান্সার চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থার যাবতীয় তথ্যাদি আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। তা স্বত্ত্বেও আমাকে পলাতক দেখিয়ে আমার কোনো আইনজীবিকে আদালত কথা বলার পর্যন্ত সুযোগ দেয়নি। এটি বিচারবিভাগের ইতিহাসে প্রহসনের বিচার হয়েই থাকবে।
সাদেক হোসেন খোকা আরো বলেন, আমি যাতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না করতে পারি, ভবিষ্যত নির্বাচনগুলোতে অংশ নিতে না পারি সেজন্যই সরকার আদালতকে দিয়ে আমাকে শস্তির ব্যবস্থা করেছে।
উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, আমার এই মামলার প্রধান আইনজীবি ব্যারিষ্টার রফিক উল হক। রায়ের কপি হাতে পেলে তিনিসহ আরো সিনিয়র আইনজীবিদের সাথে পরামর্শ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দেশে ফিরবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, আমি এখন দূরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছি। আগামী ২৩ অক্টোবর ডাক্তারের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দেশে ফেরার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। তবে পলাতক বা বিদেশে থাকার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ সেই পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের প্রতিটি জনমানুষের আন্দোলনে আমার অংশগ্রহণ ছিল। এখন এই বয়সে পালিয়ে থাকার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।
তিনি দাবি করেন, তার কাছে অবৈধ কোনো সম্পদ নেই। সব সম্পদই বৈধভাবে অর্জিত। উচ্চ আদালতে গেলে এই মামলা টিকবে না বলেও মনে করেন তিনি।
এআই





