একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি-সিপিবি।বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন আয়োজিত সংলাপে অংশ নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে সংসদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু, সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করাসহ ১৭ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়।

রাজধানীর আগাঁরগাওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। এ সময় অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ সংশ্নিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে দলের ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। সংলাপ শেষে বেরিয়ে সেলিম বলেন, নির্বাচন এখন প্রহসনে পরিণত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। ভোটের মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে তফসিল ঘোষণার আগেই সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। যাতে সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়।

তার মতে, নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক, সহায়ক বা কোনো সরকারের অধীনে নয়, নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। কমিশনের কাছে দেওয়া সিপিবির ১৭ দফা প্রস্তাবে বলা হয়, তফসিল ঘোষণার ঠিক আগে বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের মধ্যে সমতা বিধান করতে হবে; জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে ইসির অধীনে, কোনো সরকারের অধীনে নয়।

এ উদ্দেশ্যে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। নির্বাচনকালীন সময় সরকারের কর্তৃত্বকে সাংবিধানিকভাবে সঙ্কুচিত করে তত্ত্বাবধানমূলক ও অত্যাবশ্যক রুটিন কিছু কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ১০০-তে উন্নীত ও সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে; নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে প্রত্যাহারের বিধান করতে হবে এবং না ভোটের বিধান যুক্ত করতে হবে।

এছাড়া অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা; স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর তালিকা জমার বিধান বাতিল করা; জাতীয়ভিত্তিক সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু করা; জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হতে কমপক্ষে ৫ বছর দলের সক্রিয় সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক করা; টাকার খেলা বন্ধ করা; সন্ত্রাস, পেশিশক্তির প্রভাব ও দুর্বৃত্তমুক্ত করা; নির্বাচনে ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা ও আঞ্চলিকতার অপব্যবহার রোধ করা; নির্বাচনে সকলের সম-সুযোগ নিশ্চিত করা; নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণে ও নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা বিধান করা; নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী আইন ও বিধির সংস্কার করা; নির্বাচনী বিরোধ নিস্পত্তির জন্য স্বতন্ত্র আদালত গঠন করারও প্রস্তাব দেওয়া হয় সিপিবির পক্ষ থেকে।

এমএ