বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের চাকরিচ্যুতিতে প্রচলিত আইন মানা হয়নি বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মঙ্গলবার রাতে সংবাদপত্রে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই আইনজীবী বলেন, ‘ডা. জোবায়দা রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ। তিনি মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা। কিন্তু এ সব কিছুর ওপর তার পরিচয়, তিনি একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি, একজন দায়িত্বশীল স্ত্রী ও মা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় তার মেডিকেল অফিসার হিসেবে ক্ষুদ্র চাকরিটি।’
ব্যারিস্টার কায়সার বলেন, ‘এই অরাজনৈতিক মেধাবী নারীর ক্ষুদ্র চাকরিচ্যুতিতে ১৬ কোটি মানুষের সংসদ সদস্যরা কি হাস্যরস খুঁজে পেলেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। অতি সামান্য ও একান্তই ব্যক্তি পর্যায়ের একটি সংবাদ কেনইবা স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দিলেন তার কারণ উদ্ঘাটন করতে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। এটা ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা দেয়ার মতো সংবাদ নয়।’
তিনি বলেন, ‘ডা. জোবায়দা রহমান জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এমডি (কার্ডিওলোজি) কোর্সের তৃতীয় পর্বে অধ্যয়নরত অবস্থায় অসুস্থ স্বামীর উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশে স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয় কর্তৃক যথাযথ প্রক্রিয়ায় ছুটি (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর পার-৫/ছুটি-১৭/শিক্ষা/২০০৮/১১২৮, তারিখ : ০৩.১১.২০০৮) গ্রহণ করে যুক্তরাজ্যে গমন করেন। নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হবার পূর্বেই সরকারি নিয়ম মেনে তিনি পুনরায় ছুটির জন্য আবেদন করলে মন্ত্রণালয় পুনরায় তিন মাসের জন্য ছুটি মঞ্জুর করে। তিনি বিনা বেতনে বহিঃবাংলাদেশ ছুটি ভোগ করছেন। এ সময় সরকারি কোষাগার হতে কোনো বেতন-ভাতা গ্রহণ করেননি।’
স্বামীর অসুস্থতা নিরাময় না হওয়ায় তার সেবা করার জন্য মানবিক দিক বিবেচনা করে পুনরায় বহিঃবাংলাদেশ ছুটি প্রদানের জন্য তিনি যথা নিয়মে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় কোনো জবাব দেয়নি। এরপরেও কয়েক দফা একই কারণে ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করলেও মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন ডা. জোবায়দার এই আইনজীবী।
আইনজীবী কায়সার কামাল বহিঃবাংলাদেশ ছুটি ভোগ সংক্রান্তে বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস্, পার্ট-১ এর পরিশিষ্ট-৮ এর বিধান উল্লেখ করে বলেন, ‘(১) বহিঃবাংলাদেশ ছুটি ভোগের অনুমতিপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে চাকরি হতে অপসারণের যোগ্য কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, ছুটি শেষে তাকে পুনঃ কর্মে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হইবে না, তাহা হলে এই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে বাংলাদেশ ত্যাগের পূর্বে জানাতে হবে। (অনু-২৫)
(২) সংশ্লিষ্ট কর্মচারী স্থায়ীভাবে অথবা সাময়িকভাবে শারীরিক বা মানসিকভাবে অযোগ্য কিনা তাহা বহিঃবাংলাদেশ ছুটিতে যাওয়ার মুহূর্তে নির্ধারণ করা সম্ভব না হলে, তাহা পরে দূতাবাসের মাধ্যমে তাহাকে অবহিত করতে হবে। উক্ত কর্মচারীকে ছুটি হতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও তাহা দূতাবাসের মাধ্যমে জানাতে হবে। তবে ছুটি শেষ হবার কমপক্ষে তিন মাস পূর্বে তাহা দূতাবাসকে জানাতে হবে। (অনু-২৬)
নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ এর বিধি-৫ অনুসারে ছুটি পাওনা না থাকা সত্ত্বেও একজন স্থায়ী সরকারি কর্মচারীকে ভবিষ্যতে সমন্বয়ের শর্তে ব্যক্তিগত বিশেষ কারণে বা মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে অবসর প্রস্তুতি ছুটির ক্ষেত্র ব্যতীত প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি প্রদান করা যায়। কর্তৃপক্ষ মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে প্রাপ্যতাবিহীন ছুটিও প্রদান করতে পারতেন। কিন্তু তার ক্ষেত্রে তাও বিবেচনা করা হয়নি।’
এ ছাড়া, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে চাকরি হতে বরখাস্ত করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রথমে কেন তাকে বরখাস্ত করা হবে না; তা জানতে চেয়ে একটি নোটিশ প্রদান করতে হয়। তিনি নোটিশের জবাব প্রদান করলে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। যদি সে প্রথম নোটিশের জবাব নাও দেয় তবুও তাকে অব্যাহতি প্রদানের পূর্বে দ্বিতীয় বার নোটিশ প্রদান করতে হয়। সরকারি কর্মকর্তা দ্বিতীয় নোটিশের জবাব দিলে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়। যদি তিনি দ্বিতীয় নোটিশের জবাব না দেন তবে তাকে অব্যাহতি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। যদি উক্ত সরকারি কর্মকর্তা বিদেশে অবস্থান করেন তবে দূতাবাসের মাধ্যমে তাকে নোটিশ প্রদান করতে হয়। ডা. বায়দার ক্ষেত্রে এর কোনো বিধানই অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তার আইনজীবী।
আইনজীবী কায়সার আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকায় নানারকম ভুল রিপোর্ট প্রকাশের মাধ্যমে তার সম্মানহানি করা হয়েছে। আর সরকারি চাকরি হতে কোনো কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হলে তা সংসদে কোনো মন্ত্রী উপস্থাপন করেন না। শুধুমাত্র ডা. জুবায়দা রহমানের ক্ষেত্রে তা করা হয়েছে। দেশ বিদেশে তাকে ও তার পরিবারকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য ঘৃণ্য উদ্দেশে এ কাজ করা হয়েছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই এ কাজ করা হয়েছে বলে মনে হয়। এমতাবস্থায় শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সংসদে একজন সরকারি কর্মকর্তার বরখাস্তের বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসির অবতারণা করা কতটা যৌক্তিক হয়েছে তা বিবেচনার দাবি রাখে।’
ঢাকা, ৩ সেপ্টম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





