দাম্ভিকতার কারণেই বিএনপির সাথে ঐক্য করছে না সরকার। তারা মনে করছেন তারা নিজেরাই পারবে কিন্তু তারা পারছে না।  আগে ১ জন ২ জন খুন হয়েছে এখন ২০/ ২৫ জন খুন হচ্ছে। জনগনের ঐক্য ছাড়া এ সমস্যা মোকাবেলা সম্ভব নয়।

আজ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি আরও বলেন, সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, নির্লিপ্ততা এবং দায়িত্বহীনতা ও ভ্রান্ত নীতির কারণে সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিএনপি শুরু থেকেই সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানালেও সরকার তাতে কর্ণপাত না করে কোন ঘটনা ঘটলেই তার দায় বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছে। অহেতুক বিরোধী দলের হাজার হাজার নিরপরাধ নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার, মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে প্রকৃত অপরাধীদের তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। তাদের সেই ভ্রান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারনেই আজ সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ বিস্তৃত হয়েছে, সারাদেশে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

গুলশানের ঘটনা সম্পর্কে বলেন, সম্প্রতি ঢাকার গুলাশানে একটি রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও অঙ্গিকার থেকেই দেশের ভাবমূর্তি ও জনগণকে রক্ষার জন্যই দলমতের উর্দ্ধে উঠে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহবান জানিয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেছিলেন “কে ক্ষমতার থাকবে, কে ক্ষমতায় যাবে সেটা আজ বড় কথা নয়, আজ আমরা যারা আছি, আগামীতে তারা কেউ হয়তো থাকবো না। দেশ থাকবে, জাতি থাকবে, জনগণ থাকবে। কিন্তু আমাদের কিছুই থাকবে না, কোন অর্জনই টিকবে না, যদি আমরা সন্ত্রাস দমন করতে না পারি। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি। তাই কালবিলম্ব না করে আসুন আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাস বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলে শান্তিপূর্ণ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।” দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই বক্তব্য ছিল সময়োপযোগী এবং রাষ্ট্রনায়কোচিত। তাঁর বক্তব্যে জন-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সকলের আশা ছিল-সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া আসবে। এখনও জাতি সেই আশায় আছে।

কিন্তু গতকাল প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তাতে জাতি হতাশ এবং ক্ষুদ্ধ। নির্বাচনের মাধ্যমে ৫ বার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর সমর্থনধন্য বিএনপিকে বাদ দিয়ে কিভাবে জাতীয় ঐক্য সম্ভব ? কি করে সম্ভব অন্যান্য দেশপ্রেমিক দলকে বাইরে রেখে জাতীয় ঐক্য গড়া ? প্রধানমন্ত্রী যে ঐক্যের কথা বলেছেন তা সরকারে আসীন দলগুলোর এমনকি মহাজোটেরও ঐক্য নয়। আর বিএনপিসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে কিভাবে তিনি জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন ?

গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গুলশান-শোলাকিয়ার ঘটনার বিষয়ে তারা আগেই অবগত ছিলেন। তাহলে প্রশ্ন- তিনি বা তার সরকার আগে থেকেই তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করেন নাই কেন ? এমন একটি মারাত্মক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানা থাকা সত্ত্বেও যথাসময়ে উপযুক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে সরকারি ব্যর্থতার জন্য এতগুলো দেশী-বিদেশী মানুষ যে অকালে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো-তার দায়ভার কে নেবে ?

আগেই তথ্য পাওয়ার পরেও যে সরকার এধরণের সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়, সেই সরকারের সামর্থ্য ও আশ্বাসে জনগণ কতটা নির্ভর করতে পারে ?

এসময় তিনি বলেন, শুধু প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়েই যে এধরণের সমস্যা মোকাবেলা করা যায়না-গুলশান ও শোলাকিয়ায় তা আবার প্রমানিত হলো। এমন বাস্তবতার প্রেক্ষিতেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শক্তিশালী গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দলমত নির্বিশেষে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহবান জানিয়েছেন। এই আহবান শুধু সময়োচিত নয়-বাস্তবতার নিরিখে অনিবার্য।

তিনি বলেন, ক্ষমতার মোহে বর্তমান সংকটের গুরুত্ব স্বীকার করতে চায় না। জনগণকে সাথে নিয়ে দ্রুত এই সংকট সফলভাবে মোকাবেলা করার প্রস্তাবের তাই বিরোধীতা করছে। সরকারের এই দাম্ভিক অবস্থান দেশ ও জনগণের জন্য আরো বেশী ক্ষতির কারন হতে পারে বলেই আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক দল হিসেবে পূণরায় বলতে চাই-সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও কার্যকর গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে সম্মত হোন। শুধু ক্ষমতাসীনদের ঐক্য সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমন করতে পারেনি - বরং তা বৃদ্ধি ও বিস্তৃত করেছে। শুধুমাত্র সকল দল মতের কার্যকর ঐক্য তা হ্রাস, সংকুচিত ও নি:শেষ করতে পারবে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আবদুল্লাহ আল নোমন, খাইরুল কবির খোকন সহ প্রমুখ।

এমআইএস