বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, করোনার কারণে নয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছিল সরকার। এজন্য এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলেও নজরদারিতে রাখার কথা বলছে। সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর কথা বলছে। এতেই প্রমাণিত হয় যে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছিল।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ খাদ্যের জন্য হাহাকার করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪১ জনের বিশাল বহর নিয়ে বিদেশে ভ্রমণে গেছেন।
শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এইসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনা সঙ্কটে জাতি যখন দিশেহারা, ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে মানুষ, তখন দেখছি ক্ষমতার
অপব্যবহারের নামে জৌলুস। প্রধানমন্ত্রী ১৪১ জনের বিশাল বহর নিয়ে গেছেন আমেরিকায়। এর আগে তিনি ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি গেছেন ভাগ্নিকে দেখতে। সেখান থেকে গেলেন নিউইয়র্ক। এমন কী জরুরি কাজ ছিল ফিনল্যান্ড?
সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমানো নিয়ে রিজভী বলেন, এর মাধ্যমে নিম্ম মধ্যবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষকে আরো চাপে রাখল সরকার। অর্থমন্ত্রী সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে দিয়েছেন। এর মানে হলো গরিবরা মরুক। তাদের দিকে কোনো নজর নেই সরকারের।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে পৌনে দুই বছরের পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নজরদারিতে থাকবে। সিসিটিভি বসাবে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদেরকে নির্দেশনা দিচ্ছে। তাহলে প্রমাণিত হয় যে ইচ্ছা করেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে সরকার। এ কারণেই নজরদারিতে রাখার কথা বলছে। আসলে করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়নি। এখন বুঝা যাচ্ছে যে এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যেন শিক্ষার্থীরা সরকারের দু:শাসন ও অন্যায় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে না পারে।
কুইক রেন্টালের মেয়াদ বৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকারের নিজেদের স্বজন ও দলের লোকজন যেন জনগণের টাকা লুট করতে পারে এজন্যই কুইক রেন্টাল আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে পাঁচ বছর। লুটপাটের সংস্কৃতি চালু রাখতেই এটা করা হয়েছে। যা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে বর্তমান সরকার গণদুশমনের সরকার।
মরহুম নিশতার আহমেদ রাখীর স্মৃতি চারণ করে রিজভী আরও বলেন, রাখী ছিলেন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও অমায়িক ব্যবহারের মানুষ। তার আচরণে কেউ মুগ্ধ না হয়ে পারেনি। চরিত্রবান ও সৎ ছাত্রনেতা হিসেবে তার পরিচিত রয়েছে। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হবে না। আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশত নসিব করুন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মরহুম নিশতার আহেমদ রাখীর স্মরণে এই শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (রুনেসা)।
রুনেসার সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মো: মোকাম্মেল কবীরের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির রংপুর বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব মো: আবদুর রহিম, ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ মো: নেছারুল হক, রুনেসার নেতা মাহবুবুর রহমান ফরহাদ প্রমুখ।
এমবি





