জাতীয় প্রেসক্লাবকে বিএনপি কখনই জাতীয়তাবাদী প্রেসক্লাব বানাতে চায় না দাবি করে বিএনপির মূখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এই প্রতিষ্ঠানটির গৌরবজ্জল ভূমিকা রয়েছে। বিএনপি ভাগাভাগির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের জটিলতা নিয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সম্প্রতি জাতীয় পেসক্লাবের ব্যবস্থপনা কমিটি নিয়ে বিরোধ-বিভেদ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। আমরা শুনেছি সেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পন্থি সাংবাদিকরা মিলে একটি কমিটি গঠন করে নির্বাচিত কমিটিকে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা যেমন এটাকে জাতীয়তাবাদী প্রেসক্লাব হিসেবে দেখতে চাই না, তেমনি একে আওয়ামী প্রেসক্লাব হিসেবেও দেখতে চাই চাই না।
তিনি বলেন, নির্বাচিত কমিটিকে সরিয়ে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে। এটাতে আবারও প্রমাণিত হয়, সরকার জলাতংক রোগের মত ভোটাতংকে ভূগছে। আমরা জাতীয় প্রেসক্লাব নির্বাচনের মাধ্যমেই নেতৃত্বে দেখতে চাই।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আগে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব রাখত। স্বৈরাচার এরশাদের সময় ৩১জন বুদ্ধিজীবী একটি বিবৃতি স্বৈরাচারের ভিতকে কাপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এখন ৩১জন নয়, ৩১শ বুদ্ধিজীবীর বিবৃতিও রাজনীতি বা সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে না।এখন দেশে কার্যত সুশীল সমাজ বলেই কিছু নেই।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে রিপন বলেন, প্রেসক্লাবের কমিটিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির যারা আছেন, তাদেরকে আমরা বিএনপির লোক বলে ভাবতে চাই না। কারণ দেশের প্রধান বিচারপতি বা সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও যখন জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে যান, তখন তারাও কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলকেই ভোট দেন। কিন্তু তা কোনো ধর্তব্যের বিষয় নয়।
সাংবাদিকদের আমরা সাংবাদিক হিসেবেই দেখতে চাই। সেখানে কে আওয়ামী লীগ, কে বিএনপি তা তার মতাদর্শে থাকতেই পারে কিন্তু জাতীয় প্রেসক্লাবে যেন কোনো রাজনৈতিক পরিচয় মূখ্য হয়ে না উঠে।
জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, যেখানে বাজেট ঘোষণা করা হবে, তা কি জনগণের নির্বাচিত সংসদ? এ সংসদে জনগণের কোনো ম্যান্ডেট নেই। তাই ওই সংসদে কি পেশ করা হলো, তা নিয়ে জনগণের কোনো আগ্রহ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম তোফা প্রমুখ।
এমএইচ





