বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
জনাব সভাপতি,
বলপূর্বক নিখোঁজ তরুণদের স্বজনবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশন ও মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যবর্গ, সম্পাদক ও সাংবাদিক বন্ধুগণ, সুধীমণ্ডলী
আসসালামু আলাইকুম।
আজকের এই সভায় আমরা সকলেই বেদনাহত। আমাদের প্রিয় স্বদেশ আজ মৃত্যুউপত্যকায় পরিণত। বাংলাদেশ এখন এক আতংকের জনপদ। যেন কোনো শাসন নেই, সরকার নেই, প্রশাসন নেই। আছে কেবল ত্রাস। আছে নিরাপত্তাহীনতা। ঘরে, রাস্তাঘাটে, অফিসে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোথাও কেউ নিরাপদ নয়। যে-কোনো মুহূর্তে যে-কেউ খুন, অপহরণ, বলপূর্বক নিখোঁজ হবার ভয়। নাগরিকদের রক্ষা করার, নিরাপত্তা দেয়ার যেন কোথাও কেউ নেই। খালে-বিলে, নদী-নালায়, যেখানে-সেখানে পাওয়া যাচ্ছে লাশ আর লাশ। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম তরুণেরা খুন হচ্ছে, অপহরণ হচ্ছে, তাদেরকে বলপূর্বক নিখোঁজ করা হচ্ছে, নির্যাতন চালিয়ে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের উপর উৎপীড়নের পাশাপাশি এখন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এমনকি মানবাধিকার কর্মীরা পর্যন্ত বিপন্ন হয়ে পড়েছেন। এই দুঃসহ পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র ঢাকা মহানগরীতে গত কয়েক মাসে বলপূর্বক নিখোঁজ হয়ে যাওয়া তরুণদের স্বজনদেরকে আজ আমরা আপনাদের সামনে হাজির করেছি। এর সঙ্গে বহুল আলোচিত বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম ও ছাত্রদল নেতা দিনারের পরিবারের সদস্যদেরকেও আপনারা দেখছেন। এটা বিগত পাঁচ বছরের এবং সারা দেশের বলপূর্বক উধাও করে দেয়া নাগরিকদের এক খ-চিত্র মাত্র। পাঁচ বছরে সারা দেশে শত শত নাগরিককে এভাবেই বলপূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে উধাও করে দেয়া হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জোর করে তুলে নিয়ে যাবার ঘটনা ঘটেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী, বিশেষ করে র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন বা র্যা ব পরিচয়ে। তারা আর ফিরে আসেনি। স্বজনেরা প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে আজো। ঘরে ঘরে উঠেছে কান্নার রোল। এদের বাবা-মা, সন্তান ও ভাই-বোনেরা জানেনা তারা বেঁচে আছে, নাকি তাদেরকে মেরে ফেলা হয়েছে। কেননা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেনি। তাদের কোনো হদিসও দিতে পারেনি। লাশটা পর্যন্ত পায়নি এই ভাগ্যহত পরিবারগুলো। প্রিয়জনের মৃতদেহটার সৎকার করার অধিকারটুকু থেকেও তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা কোনোদিনই হয়তো জানতে পারবে না, হারিয়ে যাওয়া স্বজনের প্রকৃত মৃত্যু তারিখটি কবে। কবরটাও জিয়ারত করতে পারবে না তারা। এই পরিবারগুলোকে আমরা আজ কী সান্তনা দেব?
প্রিয় সুধী,
মানুষ কেন রাষ্ট্র গঠন করেছে? কেন সরকার, প্রশাসন ও শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে? এর প্রধান লক্ষ্য জীবন, সম্পদ ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা। সবল ও স্বেচ্ছাচারীর কবল থেকে দুর্বলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বৃহত্তর স্বার্থেই মানুষ নিজেকে আইনের আওতায় সোপর্দ করতে সম্মত হয়েছে।
কারণ, এই আইনের শাসনই মানুষকে দেয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও সুরক্ষা। শাসক ও শাসিত সকলের জন্যই এই আইন সমানভাবে প্রযোজ্য।
এই আইনের শাসনের মাধ্যমেই সভ্য পরিবেশ নিশ্চিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে আজ আইনের শাসনের অনুপস্থিতিতে সভ্য পরিবেশও উধাও হয়েছে। আমরা পিছিয়ে গেছি। আমরা আবার এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে ফিরে গিয়েছি। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের শাসন আমলে দেশে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তা দেখে প্রয়াত সাংবাদিক নির্মল সেন আতঙ্কিত নাগরিকদের মনের আকুতি তুলে ধরে লিখেছিলেন: ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই।’ আজকের পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়াবহ।
সুধীবৃন্দ,
সারাদেশে এক পৈশাচিক তাণ্ডব চলছে। ক’দিন আগে নারায়ণগঞ্জে সিটি কর্পোরেশনের একজন কাউন্সিলার ও একজন আইনজীবীসহ সাতজনকে অপহরণ করে হত্যা এবং দেখে ফেলায় আরো চারজনকে খুন করার নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। পেট কেটে ইট ভরে শীতলক্ষায় ডুবিয়ে দেওয়া তাদের লাশ ভেসে ওঠা এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সৈয়দ রিজওয়ানা হাসানের স্বামীকে অপহরণ ও রহস্যজনক মুক্তির ঘটনায় সৃষ্ট আতংকের রেশ মানুষের মন থেকে এখনো দূর হয়নি। কিন্তু এই পৈশাচিকতার অবসান ঘটছে না। এখনো অপহরণ, বিচার-বহির্ভূত হত্যা, বলপূর্বক নিখোঁজ করার ঘটনা পুরোদমে চলছে। এর মধ্যেই ফেনীতে একজন উপজেলা চেয়ারম্যানকে গুলি করে মারার পর তার মৃতদেহ পুড়িয়ে অঙ্গার করে রাস্তায় ফেলে রাখার লোমহর্ষক পৈশাচিক দৃশ্যও দেশবাসী দেখেছে। এই ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকেরা জড়িত বলে নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও সংবাদপত্রের রিপোর্টে জানা গেছে। অথচ এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে শাসক দল। এসব ঘটনায় প্রশ্ন জাগে, আমরা আবার কোন্ অন্ধকার যুগে ফিরে গিয়েছি? কোন্ নৈরাজ্যের অতলে আমরা তলিয়ে যাচ্ছি? এভাবে একটি দেশ ও সমাজ কি চলতে পারে? আমরা জাতি হিসেবে কষ্টার্জিত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা আবার হারিয়ে ফেলেছি। একই সঙ্গে সভ্যতাও কি হারিয়ে ফেলছি আমরা?
নির্বিচার হত্যা, উৎপীড়ন ও বিচারহীনতার এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশের মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিল। সেই স্বাধীন দেশের আজ এ-কী অবস্থা!
সমবেত সুধীমণ্ডলী,
খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশে আজ নিরাপত্তহীন এক নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টির জন্য যে-সব ভয়ংকর ঘটনা একের পর এক ঘটে চলেছে, তার সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের নাম।
এই র্যা ব আমরাই গঠন করেছিলাম। পবিত্র ধর্ম ইসলামের নাম ব্যবহার করে যে জঙ্গীবাদী সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়েছিল তা দমন, ভয়ংকর সামাজিক অপরাধীদের নির্মূল করা এবং অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধে এই বাহিনী ব্যাপক সাফল্য ও সুনাম অর্জন করেছিল। জঙ্গীবাদের হোতাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার ও বিচারের মাধ্যমে শাস্তিবিধান, র্যা বের কারণেই দ্রুত সম্ভব হয়েছিল। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের উৎখাত করার ব্যাপারেও র্যা ব অসামান্য সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল। এসব কারণে জনজীবনে স্বস্তি, নিরাপত্তা ও শাস্তি ফিরে এসেছিল। র্যা ব জনগণের বিপুল আশীর্বাদ ও সমর্থনপুষ্ট হয়েছিল।
এই এলিট ফোর্সকে আমরা কখনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য ব্যবহার করিনি। তাদের বাছাই ও পদায়ন খুবই সতর্কতার সঙ্গে করা হয়েছে। ফলে তাদের পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা অটুট ছিল। সেই বাহিনীকে পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে দমন, উচ্ছেদ ও নির্মূলের কাজে বেআইনিভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে। সেই হীন উদ্দেশ্যে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, পেশাগত ও নৈতিকমান বিবেচনা না করে অন্ধ দলীয় আনুগত্যকে র্যা বের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের মানদ- হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাদের দিয়ে সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বেআইনী পন্থায় বিরোধী দলের আন্দোলনকে দমনের উদ্দেশ্যে সারা দেশে গুরুত্বপূর্ণ নেতা-কর্মীদের বিচার বহির্ভূত হত্যা করানো হয়েছে। অপহরণ করানো হয়েছে।
বলপূর্বক নিখোঁজ করানো হয়েছে। চরম উৎপীড়ন করা হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশে এই ধরনের বেআইনি নিষ্ঠুর দমন অভিযানে অংশ নেয়ার কারণে এই বাহিনীর অনেক সদস্য উচ্ছৃঙ্খল ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা বুঝতে পেরেছে, তাদেরকে নির্দেশ প্রদানকারী সরকার সম্পূর্ণ জনসমর্থনহীন ও গণবিচ্ছিন্ন। এসব বাহিনীর অস্ত্রশক্তির ওপর ভর করে সন্ত্রাস চালিয়ে জনগণকে ভীত-সন্ত্রস্ত্র ও বিরোধী দলের আন্দোলন দমন করে এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। কাজেই তারা অন্যায় ও অনৈতিক যত কিছুই করুক-না কেন, এ সরকার তাদেরকে কিছু বলবে না, বলতে পারবে না।
এর ফলেই হত্যা, অপহরণ, সম্পদ দখলের কাজে র্যা বের এক শ্রেণীর সদস্যের নাম জড়িয়ে গেছে। জনগণের আশীর্বাদপুষ্ট র্যা ব হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের কাছে মূর্তিমান আতংক, এক ঘাতক বাহিনী। দেশবাসী ও দুনিয়ার বিবেকবান মানুষ এর বিরুদ্ধ সোচ্চার হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো থেকে র্যা ব বিলোপের দাবি উঠেছে। আমরা র্যা ব গঠন করলেও এই গুরুতর পরিস্থিতিতে আমাদেরকেও বেদনার সঙ্গে র্যা ব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানাতে হয়েছে। কারণ র্যা ব সমাজের ও শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের জন্য আতঙ্কের এক বিপজ্জনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই বাহিনীর সুনাম, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মান ভেঙ্গে পড়েছে। জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসা ছাড়া কোনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষেই কাজ করা সম্ভব নয়। র্যা ব সেটা হারিয়ে ফেলেছে। কাজেই ১৯৭৫ সালে জাতীয় রক্ষীবাহিনী বিলোপের মতই, র্যা ব বিলোপ করা আজ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। সর্বোপরি এই বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব মূলত: সশস্ত্র বাহিনী থেকে আসা অফিসারদের ওপর ন্যস্ত থাকে। কাজেই র্যা ব কলংকিত হওয়ার কারণে আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্রবাহিনীর সুনামও ক্ষুন্ন হওয়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। এটা আমরা মেনে নিতে পারিনা। এর সব কিছুর জন্যই দায়ী হচ্ছে সরকার। তাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেই দায়ভার মাথায় নিয়ে সরকারকেই র্যা ব বিলুপ্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে আমি মনে করি, যে উদ্দেশ্যে র্যা ব গঠিত হয়েছিল সেই কাজগুলো অব্যাহত রাখতে আইনি ব্যবস্থার আওতায় শৃঙ্খলাবোধ ও নৈতিকমানসম্পন্ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিপূর্ণ একটি দায়িত্বশীল, দক্ষ, প্রশিক্ষিত কাঠামো আমাদের গড়ে তুলতে হবে।
উপস্থিত ভাই ও বোনেরা,
আজ যে গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যে আমরা বাস করছি, তার অবসান ঘটাতে হবে। আমরা আর একটি হত্যাকান্ডও দেখতে চাই না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বেআইনী কার্যকলাপও যেন আর না ঘটে। বিচার-বহির্ভূত হত্যা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। সাদা পোশাকের কোনো বাহিনীর মাধ্যমে আর কোনো অভিযান চালানো যাবে না।
অপহরণের মতো করে কিংবা রাতের অন্ধকারে কোনো গ্রেফতার করা আর চলবে না। কাউকে গ্রেফতার করতে হলে সাক্ষী রেখে, পুলিশ ও প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিযোগ উল্লেখ করে তারপর গ্রেফতার করতে হবে। রিমা-ের নামে নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। আটক অবস্থায় কোনো বন্দী নিহত বা আহত হলে তা বিচারের আওতায় আনতে হবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, হেনস্তা, তাদের সদস্যদের হয়রানিমূলক গ্রেফতার ও অপহরণের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। বেআইনীভাবে বন্ধ করে রাখা ভিন্নমতের সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো অনতিবিলম্বে খুলে দিতে হবে, আটক সম্পাদক ও সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে হবে। ইতিমধ্যে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও বলপূর্বক নিখোঁজসহ যত গুরুতর ও বেআইনি ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। এগুলো কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়। নাগরিকদের প্রাণরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্যই এগুলো করতে হবে। এই বিষয়গুলো আইনে আছে কিন্তু তার প্রয়োগ নেই। সরকারের ইচ্ছা ও নির্দেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আইন ভেঙ্গে যে নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টি করেছে তার অবসানের জন্য এই দাবিগুলো পূরণের লক্ষ্যে আজ ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সামগ্রিক বিষয়গুলো তদন্তের জন্য আমি সাবেক একজন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে খ্যাতিমান আইনজীবী, জাতীয়-আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে দেশবাসীর কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর একটি তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি।
প্রিয় সুধী,
আমি সবশেষে বলবো, জনসম্মতি ও সমর্থনহীন কোনো সরকার কৌশল ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে থাকলে দেশ ও সমাজ এক ভয়ংকর বিপর্যয়ের দিকে এগোতে থাকে। এমন সরকার সত্যিই বিপজ্জনক। এ ধরণের সরকার যত তাড়াতাড়ি ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয় দেশ ও জাতির জন্য ততই মঙ্গল।
আমরা এই অবৈধ সরকারকে পদত্যাগ করে একটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ ব্যবস্থার অধিনে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানাচ্ছি।
আসুন, সভ্যতা, আইনের শাসন, নিরাপত্তা, সুবিচার ও গণতন্ত্র ফেরাতে আমরা একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার কায়েমের পথে পা বাড়াই। সেই লক্ষ্যে অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আমরা সবাই সোচ্চার হই। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।
আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
রাজনীতি
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম জনাব সভাপতি, বলপূর্বক নিখোঁজ তরুণদের স্বজনবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশন ও মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যবর্গ, সম্পাদক ও সাংবাদিক বন্ধুগণ, সুধীমণ্ডলী আসসালামু আলাইকুম। আজকের এই সভায় আমরা সকলেই বেদনাহত। আমাদের প্রিয় স্বদেশ আজ মৃত্যুউপত্যকায় পরিণত। বাংলাদেশ এখন এক আতংকের জনপদ





