জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়ার খবরটি গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার শিরোনাম করা হয়, “Khaleda Zia jailed for five years in corruption case” অর্থাৎ- “দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড”।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির এক মামলায় ৫ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে।
দেশের একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকের বরাত দিয়ে আলজাজিরার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিশেষ আদালত- ৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বৃহস্পতিবার দুইবারের প্রধানমন্ত্রীকে (১৯৯৬ সালের সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অনুষ্ঠিত নির্বাচন অনুযায়ী তিনবারের প্রধানমন্ত্রী) ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চেয়ারপারসন ছাড়াও আরো ৫ জনকে এই মামলায় শাস্তি দেয়া হয়েছে।
তবে, মামলার অপর আসামী বেগম খালেদা জিয়ার জেষ্ঠ্যপুত্র ও বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শেষের দিকে দেশটিতে যখন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে সেই মুহুর্তে এই মামলাকে রাজনৈতিকভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের শিরোনাম করা হয় “Bangladesh ex-PM Khaleda Zia guilty of corruption” অর্থাৎ- “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত”।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বিরোধী নেতা খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, “The verdict was read out in a court in Dhaka after police used tear gas to disperse thousands of her supporters.” অর্থাৎ- “তার হাজার হাজার সমর্থকদের টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার পর ঢাকার একটি আদালত এই রায় ঘোষণা করে।”
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ৭২ বছরের বেগম জিয়া শিশুদের চ্যারিটেবল ফান্ডের অনুদানের টাকা তছরুপ করেছেন বলে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা তিনি অস্বীকার করেছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই রায়ের যে অর্থ দাঁড়াতে পারে তা হলো - চলতি বছরের সংসদীয় নির্বাচনে বেগম জিয়াকে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না।
আর খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন বলেও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বেগম জিয়াকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কয়েক দশকের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয় মিস জিয়ার বিরুদ্ধে বিচারাধীন ডজনখানেক মামলার মধ্যে এটি একটি।
বিচারককে উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বেগম জিয়ার সামাজিক অবস্থান ও তার বয়স বিবেচনা করে তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলো।
এছাড়া ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভির শিরোনাম করা হয়, “Former Bangladesh PM Khaleda Zia Gets 5 Years In Jail For Corruption” অর্থাৎ- “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড”।
প্রতিবেদনে রায়কে ঘিরে পুলিশ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্য সংগঠিত সংঘর্ষের বিষয়টিও উঠে আসে।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক “ডি ডেইলি পাকিস্তান”-এর শিরোনাম করা হয়, “Bangladesh ex-PM Khaleda Zia gets 5 years jail in corruption case” অর্থাৎ - “দুর্নীতির মামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড”।
প্রতিবেদনে রায়কে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের ওপর আগে থেকেই যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল সে বিষয়টিরও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সসহ প্রায় সব প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেই খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের খবরটি গুরুত্বের সাথে স্থান পায়।
আরো দেখুন..
কেবি





