ইয়াছিন রানা : জনগণের ক্ষমতায়ন হলেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্ণর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়ন শক্তিশালীকরন’ শীর্ষ গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। গোটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ (বিইউপি)।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পর সংবিধানে লিপিবদ্ধ আছে রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। সরকারের দায়িত্ব আস্তে আস্তে জনগণের ক্ষমতায়ন করা, তবেই খুব সহজেই এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব।

তিনি বলেন, প্রতিক্রিয়াশীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জনগণের ক্ষমতায়নে বাধার সৃষ্টি হয়। এতে করে এসডিজিতে প্রভাব পড়বে, তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। অন্যদিকে জঙ্গি সন্ত্রাসের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু অর্থ সন্ত্রাসীদের কথা বলা হচ্ছে না। এই অর্থ সন্ত্রাসীরা সরকারকে পাহাড়াদারের মতো ঘিরে রেখেছে। এর থেকে সরকারকে মুক্ত করতে হবে।

এসডিজি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতায়িত করতে হবে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। তবেই এসডিজি অর্জনে অনেকটা এগিয়ে যাবে।

গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের নির্বাহী পরিচালক ড. নিলুফার বানু। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি)র ৮টি লক্ষ্যমাত্রার ভিতর বাংলাদেশ ৭টি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। দরিদ্রতা অর্ধেকে নেমে এসেছে। স্বাস্থ্য সেবার মানও অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এখান থেকে আরও এগিয়ে যাবার এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন গোল স্থির করেছেন। যাকে বলা হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র এবং ক্ষুধা পুরোপুরি দুর করা।

গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স এর সভাপতি ড. খলিকুজ্জামান আহমেদ বলেন, ব্যবসা বাণিজ্যে সাধারন মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের ব্যবসা বাণিজ্যে সম্পৃক্ত না করতে পারলে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে পারব না।

সাম্প্রতিক জঙ্গি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ দমন না করলে টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। জঙ্গি দমন করতে হবে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। সেই দিক থেকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবারসহ সকল সেক্টরকেই এগিয়ে আসতে হবে জঙ্গি দমনের জন্য। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যারা সক্ষম ব্যক্তি তাদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সরকারকে সেব্যবস্থা করতে হবে। উন্নয়ন প্রশাসনকে জনমূখী করতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে বিআইডিএস-এর প্রফেসরিয়েল ফেলো ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এসডিজি অর্থ সংস্থানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে আকর্ষনীয় সুদে ট্যাক্স ফ্রি বন্ড ছাড়তে হবে। তাহলে সরকারের অর্থের চিন্তা করতে হবেনা, জনগণই অর্থের সংস্থান করবে।

রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমেদ আল কবীর বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহা সড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে অভাবনীয় উন্নয় করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এসডিজির জন্য আলাদা কোন বাজেট করার প্রয়োজন নাই। সকল মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করলেই এসডিজি অর্জন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের চিন্তা চেতনাকে কাজে লগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের ঘাটতি আছে। তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধির করতে তাদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে।

ই্আর/এমবি