সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়সহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অতীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। যে কারণে এক সময় সারা দেশে ছাত্র ইউনিয়নের মতো বাম সংগঠনগুলোর ছিল জয়জয়কার। তবে ক্রমান্বয়ে অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এই সংগঠনগুলো।

বর্তমানে দুই-তিনটি সংগঠন ছাড়া অন্য বাম সংগঠনের কার্যক্রম চোখে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারায় বাড়ছে না সংগঠনগুলোর কর্মীর সংখ্যা। এতে অনেকটা স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে সংগঠনগুলোতে।

সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নেতা-কর্মীর সংখ্যা কম হলেও সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে চরম বিভক্তি। যে কারণে ইতিমধ্যে কয়েকটি সংগঠন ভেঙে একই নামে দুটি সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ছাত্রমৈত্রী থেকে তৈরি হয়েছে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ভেঙে দুই ভাগ হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটসহ নানা ব্যানারে আন্দোলন করলেও কোনো আন্দোলনেই শেষ পর্যন্ত এক থাকতে পারেন না সংগঠনগুলোর নেতারা। ফলে মাঠে মারা যায় তাদের আন্দোলন।

সম্প্রতি ঢাবির বিজয় একাত্তর হলে ফি প্রত্যাহার, দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ, মেডিকেল পুনঃ ভর্তিসহ নানা দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এবং বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী। এসব আন্দোলনের কোনোটিতেই সফল হয়নি তারা।

এদিকে গত বছর পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে সংগঠিত যৌন হয়রানির ঘটনায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। এই ইস্যুতে আন্দোলনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো দেশ। তবে অন্য কোনো বাম সংগঠন এই ইস্যুতে আন্দোলন করেনি।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দাবিতে বাম সংগঠনগুলো পৃথকভাবে মিছিল-মিটিং করলেও সব সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। সব বাম বা প্রগতিশীল সংগঠন হলেও নিজেদের মধ্যে বিভক্তি, মতবিভেদ এবং আদর্শগত দূরত্বের কারণে সংগঠনগুলো আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া কতগুলো বাম সংগঠন রয়েছে নামসর্বস্ব। এ সংগঠনগুলোর বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি নেই, নেই নেতা-কর্মী। বছরের কোনো একদিন হঠাৎ করে কোনো একটি ইস্যুতে ঝড়ের গতিতে মিছিল-মিটিং করে আর বিদ্যুতের গতিতে উধাও হয়ে যায়।

এ ধরনের সংগঠনগুলোর বেশির ভাগই গুটিকয়েক ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত। তাদের নেই কোনো গঠনতন্ত্র এবং নিয়মিত কার্যক্রম। আর কিছু সংগঠন রয়েছে শুধু বিশেষ বিশেষ দিবসে যাদের কর্মসূচি চোখে পড়ে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ), বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ ছাত্র সংহতি, ছাত্রঐক্য ফোরামসহ অনেক সংগঠনের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না।

পহেলা বৈশাখে যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনের মুখপাত্র ও ছাত্র ইউনিয়ন ঢাবি শাখার সভাপতি লিটন নন্দী বলেন, ক্ষমতাসীনদের দাপট; সিট বাণিজ্যসহ নানা কারণে শিক্ষার্থীরা চাইলেও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বিরাজনীতিকরণের কারণে বাম রাজনীতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনুৎসাহিত হয়। এর ফলে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনে কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে না।

সুত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এমএইচ