ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে দুটি পক্ষ। রোববার বেলা সোয়া ২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং একটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়।
সংঘর্ষের কারণে এসময় বিএনপি অফিসের সামনের রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পথচারীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্বিকবিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। আশেপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়।
এর আগে সকাল থেকেই পক্ষে-বিপক্ষে মিছিলে উত্তপ্ত হয়ে উঠে নয়াপল্টন ও এর আশপাশ এলাকা। যে কোনো সময়ে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছিলেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল ও যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কার্যালয়ের সামনে অবস্থানরত উভয় পক্ষকে সরে যেতে বললে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এসময় নতুন কমিটির অবস্থান করা নেতাকর্মীদের দিকে লক্ষ করে পদবঞ্চিতরা ৩টি ককটেল নিক্ষেপ করে।
মূহুর্তেই দু পক্ষ লাঠি সোটা নিয়েে একে অপরের দিকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়ে যায়। এক পর্যায়ে নতুন কমিটির নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের ভিতরে ও আশেপাশের অলিগলিতে অবস্থান নেয়।
এসময় দুপক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০-১২জন নেতাকর্মী আহত হন। পরে ককটেলের আঘাতে গুরুতর ৪জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে শফিক, মাসুম, রাজ, শিমুল ও বাবুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সংঘর্ষের সময় নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের প্রবেশ পথে রাখা দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ম্যূরালের কাঁচ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
দুপক্ষের সংঘর্ষের সময় দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবীর রিজভী আহমেদ, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধূরী এ্যানী, বিগত কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।
তবে সংঘর্ষ চলার সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আশে পাশে অবস্থান করলেও কোনো ধরনের অ্যাকশন নিতে দেখা যায় নি।
সর্বশেষ সাড়ে ৪টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পদবঞ্চিতদের অবস্থনের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রোববার সকাল ৮টা থেকেই নতুন কমিটির নেতাকর্মী কার্যালয়ে সামনে অবস্থান নেন। এ সময় আগের দিন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিদ্রোহী গ্রুপের দেওয়া তালা ভেঙে ফেলেন তারা ভিতরে অবস্থান করেন নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে বর্তমান কমিটির নেতাকর্মীরা।
কমিটির নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন নতুন কমিটির ওপর আস্থা রেখে তাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। যে কোনো পরিস্থিতিতে সেই দায়িত্ব পালন করা হবে। এক্ষেত্রে বাধা আসলে প্রতিহত করা হবে।
এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পদবঞ্চিত নেতারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপক্ষ কমিটির পক্ষে-বিপক্ষে মিছিলে পুরো এলাকা উত্তপ্ত করে রেখেছে।
বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আবু সাঈদ, জাভেদ হাসান স্বাধীন, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, তরুণ দে, কামাল আনোয়ার আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম তালুকদার রাজু, শহীদুল্লাহ ইমরান, ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, মশিউর রহমান মিশু, তরিকুল ইসলাম টিটু ও নূরুজ্জামান মুকিত লিংকন, মাহবুবুল আজম, মনিরুল ইসলাম সোহাগ, এম কামরুজ্জামান, আব্দুল মান্নান ফরহাদ, আহসানুল হক রুবেল, রাকিবুল ইসলাম রয়েল, সাঈদ ইকবাল টিটু, রফিকুল ইসলাম রফিক, এমরান হোসেন মানিক, শামসুজ্জোহা সুমন ও জসীম উদ্দিন খান।
উল্লেখ্য, রাজিব আহসানকে সভাপতি ও মো. আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে গত মঙ্গলবার রাতে ২০১ সদস্যবিশিষ্ট ছাত্রদলের আংশিক নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কমিটি ঘোষণা করার পর থেকেই পদবঞ্চিতরা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন।
এমএইচ,ইআর





