অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয় জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না।

অজ (শুক্রবার) সিলেটে কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে ‘বীমা মেলা-২০১৭’র উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

রংপুরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরাজয়ের কারণে তা জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রথমে অর্থমন্ত্রী বলেন, “নো, নো, কোনো প্রভাব ফেলবে না।”

এরপরেই মুহিত বলেন, জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব খুব কমই থাকবে। এটা স্থানীয় ব্যাপার। তাছাড়া রংপুরে জাতীয় পার্টি যথেষ্ট জনপ্রিয়।

রংপুরের নির্বাচন পদ্ধতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচন সিস্টেমকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। নির্বাচন সিস্টেমের যে নিরপেক্ষতা আছে সেটা এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনে জয়লাভ করায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে অভিনন্দন জানান অর্থমন্ত্রী।

ফার্মাস ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভাঙার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, ফার্মাস ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ মোটামুটি ভাঙা হয়ে গেছে।

ব্যাংকটি গ্রাহকদের টাকা দিতে পারছে না, সেজন্য ব্যাংকটিতে প্রশাসক নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মুহিত বলেন, এটা আমি বলতে পারব না। বিষয়টি নিয়ে গভর্নর’র সঙ্গে কথা বলতে হবে। গ্রাহকের টাকা মারা যাবে না। এটা সরকার নিয়েছে, সরকার ব্যবস্থা করে দিবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে সদ্য বিদায়ী মেয়র ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হন মোস্তফা।
১৯৩ কেন্দ্রের মধ্যে জাতীয় পার্টির এ প্রার্থী পেয়েছেন এক লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট।

বিএনপির প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা ৩৫ হাজার ১৩৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা হাতপাখা মার্কায় ২৪ হাজার ৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন। আবদুল কুদ্দুস মই মার্কায় পেয়েছেন ১ হাজার ২৬২ ভোট।
নির্বাচনে মোট সাত মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এমবি