সবার অংশগ্রহণে দ্রুত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিসহ সরকার বিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্যে দলকে পূনর্গঠন করতে চান বিএনপি হাইকমান্ড। যত দ্রুতসম্ভব দলকে তৃণমুল পর্যায়ে গুছিয়ে এনে উপজেলা নির্বাচনের পর বিএনপির ভাষায় এই অবৈধ সরকারকে আর সময় দিতে চান না তারা।
৫ জানুয়ারির ১০ম নির্বাচনের আগে সরকারের কঠোর মনোভাব, প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের ফলেও ঢাকার বাইরে দেশের প্রায় সব জায়গায় আন্দোলন জমাতে পারলেও রাজধানী কেন্দ্রীক কোনো সফল আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। এজন্য ঢাকা মহানগরীকে দায়ী করার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাও দায়ী।
তবে চলতি সপ্তাহের যে কোনো দিন ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের মধ্য দিয়েই দল গোছানোর কাজ শুরু হচ্ছে। গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে এমনটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দলের একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
যদিও নির্বাচনের পর থেকেই আলোচনায় ছিল যে কোনো দিন ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদের বাইরে চলা যায় দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। এরপর পরিবর্তিত পরিস্থিতে দলের করণীয় ঠিক করতে ১০ ফেব্রুয়ারি প্রথম স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করেন দলটির চেয়ারপারসন। বৈঠকে আন্দোলনের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে মূল্যায়ন করা হয়।এই বৈঠকে সবাই একমত হন যে, আন্দোলনে যথাযথ ভুমিকা ও সঠিক দায়িত্ব পালন করতে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে ঢাকা মহানগর বিএনপি।
বিএনপির চেয়ারপারসনও পরিষ্কার জানিয়ে দেন দল ও আন্দোলনের জন্য কোনো ছাড় দিতে রাজি নন তিনি। তাই যে কোনো সময় ঢাকা মহানগর কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি করে দেওয়া হবে। কিন্তু নানা কারনে এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়ে পরে।
কিন্তু এবার আর সময় নিতে চান না দলটির হাইকমান্ড। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহর নেতৃত্বে এ আহ্বায়ক কমিটি চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। তবে তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে অলিখিতভাবে উপদেষ্টা করা হচ্ছে এমন মনোভাবও রয়েছে। আন্দোলনে মাঠে ছিল এবং অপেক্ষাকৃত নবীন এদের প্রাধাণ্য দিয়ে এ কমিটির সংখ্যা হচ্ছে ২১ সদস্য বিশিষ্ট। তাদের মেয়াদ হবে এক মাস। এর মধ্যেই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ওয়ার্ড, থানা ও মহানগরে কাউন্সিল করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন।
জানা গেছে, ২১ সদস্যের কমিটিতে সদস্যের তালিকায় দলের যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, কেন্দ্রীয় নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী সোহেল, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আবু সাঈদ খান খোকন, সালাহউদ্দিন আহমেদ, যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম, কাজী আবুল বাশার, এম এ কাইয়ুম প্রমুখের নাম শোনা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া টাইম নিউজকে বলেন, শিগগিরই বিএনপিকে পূনর্গঠিত রূপে দেখা যাবে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাচনের পর বিএনপি বৃহৎ আন্দোলনে যাবে।
তিনি আরও যোগ্যদের নেতৃত্বে এনে এবার সর্বাত্মক গড়ে তোলা হবে। কিন্তু সরকার যদি মনে করে বিএনপির দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কর্মসূচি দেবে না সেটি ভূল করবে। জনগণ এভাবে বেশি দিন সহ্য কর থাকবে না। সরকারের বিষটি উপলব্ধি করতে হবে।
দলের স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, স্থায়ী কমিটির আগের বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল মহানগর আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি করার। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে হবে সে কমিটি যারা রাজপথে আন্দোলন করতে পারবে। কমিটি গঠন নিয়ে বিলম্বের কার জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছুটা সময় লাগছে তবে এবার ম্যাডাম নিজেই বলেছেন চলতি সপ্তাহের যে কোনে দিন ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি গঠিত হবে।
[b]ঢাকা, এমএইচ, (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ[/b]
রাজনীতি
ঢাকা মহানগর কমিটি দিয়েই বিএনপি পূনর্গঠন শুরু
সবার অংশগ্রহণে দ্রুত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিসহ সরকার বিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্যে দলকে পূনর্গঠন করতে চান বিএনপি হাইকমান্ড। যত দ্রুতসম্ভব দলকে তৃণমুল পর্যায়ে গুছিয়ে এনে উপজেলা নির্বাচনের পর বিএনপির ভাষায় এই অবৈধ সরকারকে আর সময় দিতে চান না তারা





