“আওয়ামী লীগ সংবিধানকে পদদলিত করে এবং গণতন্ত্রের কবর রচনা করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার যে নীল-নকশা প্রণয়ন করেছে তা দেশে-বিদেশে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের নামে প্রহসন করে ক্ষমতা গ্রহণ করার এ চক্রান্ত বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান।
আজ ১০ মার্চ এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের গণতন্ত্রকামী রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশে গণতন্ত্র চর্চার পরিবেশ তৈরি ও সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে সরকারের অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি হচ্ছে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের রাজনীতি। ক্ষমতার স্বার্থে তারা গণহত্যা চালাতেও কুণ্ঠিত হয় না। ’৭২ থেকে ’৭৫, ১৯৯৬-২০০১ ও ২০০৯ থেকে ২০১৩ এবং গণতন্ত্রের দাফন ঘটিয়ে ৫ জানুয়ারী ২০১৪ ক্ষমতা দখলের পর আজ পর্যন্ত আওয়ামী শাসনকাল হত্যা, সন্ত্রাস, খুন, গুম ও নৈরাজ্যজনক কর্মকাণ্ডে ভরপুর।
৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত ৪০ হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছিল তারা। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। মানুষ হত্যা করার পর বস্তাবন্দী করে মৃত লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা, শত শত মানুষের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার মর্মান্তিক ঘটনা আওয়ামী দুঃশাসনের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।
বর্তমান সময়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শক্তি তাদের দুশ্চরিত্র ও বিভৎসতাকে আরও ভয়াবহ রূপে জাতির সামনে প্রকাশ করেছে। তারা জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছে। তারা রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় ক্যাডারের মত ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গণহারে হত্যা করছে। গত ৬৪ দিনে আওয়ামী ক্যাডার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের প্রায় দেড় শতাধিক নেতা-কর্মীকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তারা বিরোধী রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয় নেতাদের ধরে নিয়ে লাশ গুম করে দিচ্ছে। তাদের এ নির্মমতার প্রধান শিকার জামায়াত সমর্থিত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ।
গত ৯ মার্চ দুপুরে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান স্থানীয় জামায়াত নেতা এস.এম. রাশেদুল আলম সবুজের উপর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তাকে বেদম মারপিট করে। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে।
এর আগে নড়াইল পৌরসভার নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলার এড. ইমরুল কায়েসকে গুলি করে হত্যা করে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। রংপুর জেলার মিঠাপুকুরের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান জনাব আবদুল বাসেত মারজানকে পুলিশ আটক করার ৩৮ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়নি এবং পরিবারের কাছেও ফেরত দেয়া হয়নি।
আওয়ামী ক্যাডাররা প্রতিনিয়ত জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করছে। কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমীর জনাব কাজী দ্বীন মুহাম্মাদের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা ককটেল বোমা হামলা চালিয়েছে এবং দাউদকান্দি উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল বাসারের বাড়িতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলা ও ভাংচুর করেছে ও কুমিল্লা শহরে জামায়াতের এক রুকনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করেছে।
আওয়ামী লীগ দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে মূলতঃ গণতন্ত্রের চিরস্থায়ী কবর রচনা করার ব্যবস্থা করছে। আওয়ামী লীগের এ সব নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী তা-বের বিরুদ্ধে জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। জনতার এ আন্দোলন অবশ্যই সফল হবে ইনশাআল্লাহ।
২০ দলীয় জোট ঘোষিত গণঅবরোধ, হরতাল, গণমিছিলসহ সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে চলমান গণআন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করার মাধ্যমে এ জালেমশাহীর পতন নিশ্চিত করার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।
এসএইচ





