২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য দূর করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার এই লড়াইয়ে তোমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতে এদেশকে তোমরাই নেতৃত্ব দেবে। তাই, শিক্ষা, মেধা, মনন ও সততার সংমিশ্রনে নিজেদের তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার সকালে গাজীপুর কালিয়াকৈরের মৌচাকে নবম বাংলাদেশ ও প্রথম সার্ক স্কাউট অর্গানাইজেশন (সানসো) স্কাউট জাম্বুরীর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
শিশু, কিশোর ও যুবদের সৎ, চরিত্রবান, আত্মপ্রত্যয়ী ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে স্কাউট আন্দোলনের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় স্কাউটদের বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় স্কাউট সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে থাকে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও শীতার্ত মানুষের সেবায় তাদের কার্যক্রম জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
এছাড়া বৃক্ষরোপণ, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য শিক্ষা, ইপিআই কর্মসূচি ও পরিবেশ সচেতনতায় স্কাউটদের সেবামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তথ্য প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্কাউটদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তির উপর ভিত্তি করেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তোমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজেদের আধুনিক বিশ্বের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তৈরির লক্ষ্যে আমাদের সরকার স্কুলগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষাদানের জন্য কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুমের ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ‘ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্র’ চালু করা হয়েছে।
তোমরা জান আমরা ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করেছি। গত সপ্তাহেই আমরা সর্বোচ্চ ৭,৩৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। তারপরেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কোনো বিকল্প নাই। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে বাংলাদেশ স্কাউটস এর সহযোগিতা নিয়ে নিয়মিত বিদ্যুৎ ক্যাম্প ও স্বাস্থ্য ক্যাম্প আয়োজনের আহ্বান জানাচ্ছি।
বাংলাদেশে স্কাউট আন্দোলনকে জোরদার করতে সম্ভাব্য সবধরনের সহযোগিতা করবো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাবিং সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট থ্রু স্কাউটিং প্রকল্পের মাধ্যমে অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে কাব স্কাউট ও স্কাউট দল গঠন করা সম্ভব হয়েছে।
২০১২ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মত এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল স্কাউট কনফারেন্স আয়োজন করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
মৌচাকের জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ট্রেনিং কমপ্লেক্সে পরিণত করতে আমি এরইমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছি। সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশ স্কাউটস সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। মৌচাকের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য একটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণের জন্য স্কাউট নেতৃবৃন্দকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
জেলা পর্যায়ের স্কাউট কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। সকল জেলায় স্কাউট ভবন নির্মাণ করে দক্ষ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করছি।
আমি মনে করি, উন্নত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরীতে বাংলাদেশ স্কাউটস সব সময় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তাই সরকার স্কাউটিংয়ের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বাংলাদেশ স্কাউটস এর সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১৩ লাখ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি জনসংখ্যার তুলনায় খুব একটি বেশি নয়। স্কাউটসের গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে এ সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমি স্কাউট নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানাই। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুটো করে স্কাউট দল খোলার পরামর্শ দিচ্ছি।
বাংলাদেশ স্কাউটস গার্ল-ইন-স্কাউটিং কার্যক্রম তাদের ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে এবং স্কাউটিং এ মেয়েদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৬৬৭ জন জন। আমি এজন্য বাংলাদেশ স্কাউটসকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। স্কাউটিং এ মেয়েদের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে, এজন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা আমরা দেব।
এসময় তিনি এ জাম্বুরিতে অংশ নেওয়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমুহের স্কাউটসদস্যদের উদ্দেশে বলেন,
I welcome the Scouts from SAARC Countries. I am grateful to all the SAARC Countries for giving us the opportunity to arrange First SAARC National Scout Organization Jamboree in Bangladesh. Please convey my regards and best wishes to all your scouts.
সবশেষে স্কাউটবৃন্দের উদ্দেশে তিনি বলেন, হিংসা, বিদ্বেষ ও নৈতিক অবক্ষয়ের উর্ধ্বে উঠে আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্বদানের জন্য তোমাদেরকে প্রস্তুত হতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিক্ষার আলোকে আলোকিত হয়ে স্কাউটিং এর সুমহান ব্রতকে তোমরা জীবনের সকল ক্ষেত্রে ধারণ করে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠবে। মৌচাকের এই মধুর মিলন মেলায় তোমাদের অংশগ্রহণ ও অবস্থান আনন্দময় হোক এ কামনা করি।
উপস্থিত সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আমি নবম বাংলাদেশ ও প্রথম সার্ক স্কাউট অর্গানাইজেশন (সানসো) স্কাউট জাম্বুরি শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।
[b]গাজীপুর, ৫ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]
রাজনীতি
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে স্কাউটারদের এগিয়ে আসতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য দূর করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার এই লড়াইয়ে তোমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতে এদেশকে তোমরাই নেতৃত্ব দেবে। তাই, শিক্ষা, মেধা, মনন ও সততার





