বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অবরোধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নেতাকর্মীদের কঠোর হস্তে দমন করার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রয়োজনে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ‘যে যত বড় নেতাই হোক কাউকেই ছাড়’ নয় মনোভাব পোষণ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠিত এক অনির্ধারিত বৈঠকে তিনি এই মনোভাব পোষণ করেন বলে বৈঠকের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য-অরাজকতা প্রতিহতের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, ‘অবরোধের নামে কেউ নাশকতা করলে, নৈরাজ্য করলে, জনগণের জানমালের ক্ষতি করলে, যে যত নেতাই হোক কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে এসব নৈরাজ্যকারীদের ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে হবে। প্রয়োজন বিএনপি নেত্রীকেও গ্রেফতার করা হবে।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা করা হচ্ছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে সভানেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এর প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেসব এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘরে হামলা করছে, তাদেরও তো বাড়িঘর আছে, প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মোকাবিলা করেন। আইনশৃঙ্খরা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আপনাদের পাশে দাঁড়াবে। তারা হামলা করলে আপনারা চুপ করে বসে থাকবেন কেন?’
শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আপনারা নেতাকর্মীদের নিয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহয়োগিতা করতে স্থানীয় নেতকর্মীদের নির্দেশনা দেন। সহিংসতা করে, বোমাবাজি করে, গাড়িতে আগুন দিয়ে তারা এই জনবিচ্ছিন্ন অবরোধ বেশি দিন চালাতে পারবে না।’
বৈঠক সূত্র আরো জানায়, ইজতেমার মুসল্লিদের অংশগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে যা যা প্রয়োজন সব পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ইজতেমার নিরাপত্তা আরো জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির অবরোধে সারা দেশে যান চলাচল আরো স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সকল নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়াও বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ‘সারা দেশের মুসলমানসহ বিশ্বের মুসলমানেরা বিশ্বের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবে (ইজতেমা) যোগ দিতে আসছেন। এ কারণেই আমাদের কর্মসূচি পরিবর্তন করে ১২ তারিখে নেওয়া হয়েছে। কারণ ৯, ১০, ১১ এই তিন দিন বিশ্ব ইজতেমা। তাই কর্মসূচি এর পরের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেড় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বি এম মোজাম্মেল হোক, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।
জেএ





