নজিরবিহীন কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে চট্টগ্রামের পর এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর সোয়া ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের এ ঘোষণা দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। 

এ সময় আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহবায়ক প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমদ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শওকত মাহমুদসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের দলীয় সমর্থনপ্রাপ্ত প্রার্থী তাবিথ আঊয়াল ও মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মওদু অভিযোগ করেন,  অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের চিরকুট বহনকারী ভোটার ছাড়াও কাউকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আজকের নির্বাচনে আবারও প্রমানিত হলো দেশে কোন গণতন্ত্র নেই। মানুষের ভোটের অধিকার নেই। মানুষের আকাংখা ছিল গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও সরকার তা থেকে জনগনকে বঞ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, জনগনের আশা ছিল এবারের সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। আমরা বিএনপি’র পক্ষ থেকে আশা করেছিলাম এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন আরো জোরদার হবে। কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন বলতে যা বোঝায় তা তো দূরের কথা, নির্বাচনে ভোট দেয়ার নূন্যতম সুযোগ ও পরিবেশটুকু নষ্ট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারি দলকে সহায়তা করার জন্য ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিয়োজিত ছিল। ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ-র‌্যাব সরকারের ইচ্ছা পূরণ করতে কাজ করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আজ গণতন্ত্র ও নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছে। জনগনও এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে কারণ তারাও কোথাও ভোট দিতে পারেন নি।

তিনি আরো বলেন, ৫৭, ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডসহ বেশ কিছু ওয়ার্ডে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। অনেককে শারীরিকভা নির্যাতন করা হয়েছে।

এছাড়া ৫৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি বাদে সব ক'টিতে এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ব্যরিস্টার মওদুদ।

তিনি বলেন, ২৫ ও ২৭ নং ওয়ার্ডসহ অনেক কেন্দ্রে কোন মিডিয়াকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আগে থেকেই জালভোট দিয়ে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে।

ব্যরিস্টার মওদুদ বলেন, এই নির্বাচনে ৫ শতাংশ ভোটারও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।

ক্যামেরা ভেঙে ফেলেছে: আফরোজা আব্বাস

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পত্নী আফরোজা আব্বাস বলেন, আমার কাছে সকাল থেকেই কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ আসতে থাকে। যখন ভোট কেন্দ্রে যাই তখন আমাকেসহ সংবাদকর্মীদের লাঞ্চিত করা হয়। ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের সহায়তায় কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। এছাড়া কর্মীদের আটক করা হয়েছে, মারধর করা হয়েছে, ভোটারদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

সরকার সমর্থিত ছাড়া কোনো এজেন্ট দেখিনি: তাবিথ

ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, আমি যত কেন্দ্রে গিয়েছি কোনো কেন্দ্রে সরকার সমর্থীত প্রার্থীর পোলিং এজন্টে ছাড়া অন্য দলের কাউকে দেখিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি ভোট দিতে গিয়ে দেখি পেপারে সাইন করা নেই। পরবর্তীতে সাইন করার পর ভোট দেই। সকল কেন্দ্রে আমাকে এবং সংবাদকর্মীদের পুলিশ বাধা দিয়েছে। কারা ভোট দিতে ঢুকবে আর কারা ঢুকবে না এটাও নিয়ন্ত্রণ করেছে সরকার সমর্থীতরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেণন, আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’র আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ, সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মাদ শাহজাহান,

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, গণশিক্ষা সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, কবি আবদুল হাই শিকদার, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

ঢাকা ও চট্টগামের ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরাও বজৃনের ঘোষণা দিয়েছেন।

ব্যাপক কারচুপি ও সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্র দখলের প্রতিবাদে এই ঘোষণা দিয়েছেন তারা। দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং-এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন মেয়র প্রার্থীরা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ (কমলালেবু), দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুর রহমান (ফ্লাস্ক), সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান সহকারী মহাসচিব আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, ছাত্র নেতা নুরুল ইসলাম আল আমীন প্রমুখ।

এআর/কেএইচ/কেবি