যে কয়েকজন স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য অনেক আগে থেকেই কথা বলেছেন তাদের মধ্যে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী একজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সম্ভবত ২২ তারিখে পল্টন ময়দানে একটি জনসভায় তিনি স্বাধীন গণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার ঘোষণা করেছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন এর মূল লক্ষ্যই হলো এই সত্য ইতিহাস কে সামনে নিয়ে আসা।
মঙ্গলবার ০৯ মার্চ ১৯৭১ উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এইসব কথা বলেন।
একজন মানুষের কথা, একজন মানুষের নির্দেশে এক মুহূর্তে দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে সেটা সঠিক নয় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বছরের পর বছর দিনের পর দিন যারা সংগ্রামের মাধ্যমে আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই স্বাধীনতার ক্ষেত্রটা কে তৈরি করেছিলেন তাদেরকেই আজকে আমরা স্মরণ করি না। তাদের মধ্যে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অন্যতম। তার বিষয়ে এক কথায় বলে শেষ করা যাবে না। তিনি একজন কিংবদন্তি নায়ক। রাজনীতিতে একটি জাদুকরি বিষয় যেটা সেটা তার মধ্যে পাবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই ভাসানী নাম কেন হয়েছে? এই ভাষণ চরের মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তখন আসামের নির্যাতিত কৃষকদের পক্ষে আন্দোলনের জন্য সারাদেশে ছুটে বেড়াতেন। তখন মোটরসাইকেল ছিলনা, একটি ঘোড়া নিয়ে তিনি এখানে সেখানে যেতেন এবং কিছুক্ষণ পরে ৫০ মাইল দূরে আরেক জায়গায় গিয়ে বক্তৃতা দিতেন এবং মানুষকে সংঘবদ্ধ করতেন। মানুষের উপর অত্যাচার-নির্যাতনকারী জমিদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। তিনি পাকিস্তানের পক্ষে বৃটিশ থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য লড়াই করেছেন সংগ্রাম করেছেন। তিনি আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তার আগে কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। আজীবন তিনি খেটে খাওয়া মানুষের জন্য লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন বলেও যোগ করেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ প্রমুখ।
এমবি





