প্রখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের জামাতা ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ এর সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ডেভিড বার্গম্যান কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরাকে বলেছেন, বাংলাদেশে এমন কোনো বিচার প্রক্রিয়া নেই যা নিয়ে বিতর্ক নেই। যুদ্ধাপরাধের বিচারও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়।

আলজাজিরাতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে ‘হোয়াটস বিহাইন্ড বাংলাদেশ ওয়ার ক্রাইম ট্রায়ালস?’ (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচারের নেপথ্যে কী?) শিরোনামের একটি টকশোতে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, টবি ক্যাডম্যান ও বাংলাদেশের অন্যতম ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ এর সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ডেভিড বার্গম্যান।

বার্গম্যান আলজাজিরার টকশোতে বলেন, এটি একটি জটিল বিষয়। তবে বিতর্ক থাকলেও এই বিচারের যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। বাংলাদেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী এই বিচারকে সমর্থন করে। তিনি বলেন, ৪০ বছর পর বিচার শুরু হয়েছে। কারণ মানুষ মনে করছে, তাদের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং এ কারণে তাদের বিচার হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য আসলে স্পষ্ট নয়। তারা ২০০৯ সালে এসে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করেছে। অথচ এর আগেও তারা ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু তখন এ ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। কারণ তখন তারা সংশয়ে ছিল যে, বিচার করা সম্ভব হবে কিনা। কিংবা তাদের ভোট ব্যাংক নষ্ট হবে কিনা।

বার্গম্যান বলেন, আমার মনে হয়, এই বিচার শেখ হাসিনাকে একটি জায়গায় নিয়ে এসেছে। এ কারণে কিছু মানুষ তাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেবে।

অনুষ্ঠানের অপর আলোচক আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বলেছেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় মারাত্মকভাবে রাজনীতিকরণ ছিল। তিনি বলেন, এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, আমরা মাত্র ছয় দিনে তিনটি রায় পেয়েছি।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আলজাজিরা সাংবাদিক জেন দুত্তন। অনুষ্ঠানটি আলজাজিরার অনলাইন সংস্করণে মঙ্গলবার আপলোড করা হয়।

জামায়াতের আন্তর্জাতিক লবিস্ট টবি ক্যাডম্যান আরও বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু তা করা হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নাম হলেও এর বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

টবি ক্যাডম্যান বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় যে সব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এমনকি অনেক বিচারকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া অনেকে এই বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে বিব্রতবোধও করেছেন।

রিভিউ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি রিভিউ আবেদনের পাশাপাশি জাতিসংঘের কাছে উপস্থাপন করব। বিশেষ করে, কামারুজ্জামানের বিষয়টি, যাকে যে কোনো মুহূর্তে ফাঁসি দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা আশা করব, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ব্যাপারে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে যাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হয়।

অনুষ্ঠানের অপর আলোচক বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, টবি ক্যাডম্যান জামায়াতের লবিস্ট। তাই জামায়াতের পক্ষে তিনি কথা বলবেন এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ওপর নানা চাপ থাকার কারণে বিচার শুরু হলেও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

মফিদুল হক বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না। বরং ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশের জনগণ সরকারকে নির্বাচিত করে এই বিচারের ভার দিয়েছিল। সরকার সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছে। তিনি বলেন, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ছিল তাই মানবতা তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।

এএইচ