দুর্নীতি দমনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কর্মকর্তাদের নির্বাচন করে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ।

তিনি বলেছেন, ‘আপনারা স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চান। আমরাও এ নিয়ে কাজ করছি। আমরা চাই আপনাদের মতো লোক সংসদ পর্যবেক্ষণ করতে নয়, মেম্বার হিসেবে সংসদে আসুক। সেজন্য আপনাদের আমন্ত্রণ জানাই।’

জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে রবিবার ‘প্রাক-বাজেট আলোচনায়’ রওশন এ আমন্ত্রণ জানান। আলোচনা অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে তাদের সুপারিশ বিরোধীদলীয় নেতার সামনে তুলে ধরেন।

রওশন এরশাদের এমন আহ্বানের উত্তরে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সবাই তো এক।’

এ সময় রওশন বলেন, ‘আপনারা যদি সংসদে আসেন তাহলে আপনাদের ভূমিকা আরও ফলপ্রসূ হবে।’

বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এ সংসদে বিরোধী দল নেই। সংসদে সরকারি দল রয়েছে। বিরোধী দল বলতে যা বোঝায় সে বিরোধী দল নেই।’

জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারবে কিনা, জানতে চাইলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সেটি পারবে কিনা বিরোধী দল প্রমাণ করবে, যারা বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের দাবি করছে বা যাদের বিরোধী দল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তারা নিজেরাই কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। সেটা আমরা আশা করব।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিরোধী দল এক ধরনের আত্মপরিচয়ের সঙ্কটে আছে। এই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার দায়িত্ব তাদেরই ওপর। তারা তাদের ভূমিকার মাধ্যমে এ সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারে। যদি বাজেটের ওপর বিষয়কেন্দ্রিক আলোচনা সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারেন তারা। দেশবাসীকে প্রমাণ করতে পারেন তারা সত্যিকার অর্থেই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে তাহলে হয়তো যে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে সেটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।’

টিআইবির মন্তব্য সম্পর্কে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে তাদের যে আলোচনা হয়েছে, আমাদের ভূমিকা নিয়ে তারা কোনো সন্দেহ করেনি। উনাদের আমরা বলেছি, আমরা অতীতে যে কাজগুলো করেছি, যেমন রাজশাহী, জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি থেকে আরম্ভ করে প্রতিটি যে ঘটনা ঘটেছে সেগুলো নিয়ে আমাদের ভূমিকা কি ছিল, তা আমরা তুলে ধরেছি। তারা আমাদের বলেছেন, জোরালভাবে আপনাদের ভূমিকা রাখবেন। এই আশা করেছেন। কিন্তু আমাদের জিনিস নিয়ে ওরা কোনো সন্দেহ করেনি।’

প্রাক-বাজেট আলোচনায় টিআইবি সকল প্রকার সরকারি ক্রয়, কর সংগ্রহ অনলাইনভিত্তিক নিরীক্ষা চালু, প্রতিরক্ষাসহ সব খাতের তথ্য প্রকাশ, অডিট আইন দ্রুত প্রণয়ন, থোকবরাদ্দ নিরুৎসাহিতসহ ১১ দফার সুপারিশ তুলে ধরে।

সুপারিশ তুলে ধরার সময় ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক জবাদিহিতা, বৈষম্য নিরসন তথা মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা অপরিহার্যতা উপেক্ষা করে উন্নয়ন ও মধ্যম আয়ের দেশের তালিকাভুক্তির স্বপ্ন আপাতদৃষ্টিতে সম্ভব বিবেচিত হলেও স্থায়িত্বের সম্ভাবনার মাপকাঠিতে তা স্বপ্নবিলাস হিসেবে রূপান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতে পারে, কিন্তু দরিদ্র, বৈষম্যের শিকার ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে অধিকতর প্রধান্য দিতে হবে। বিশেষ করে কৃষিপল্লী উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারী-শিশু-যুব উন্নয়ন, ধর্মীয় নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু ও প্রতিবন্ধী এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকির মুখোমুখি জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা ছাড়াও হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, রুহুল আমিন হাওলাদার ও শওকত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া টিআইবির পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন- উপ-নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া খায়ের, এসএম রেজওয়ান উল আলম, রফিকুল হাসান, জাকির হোসেন খান।
এমএইচ