ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একদিকে সংবিধান স্বীকৃত বাক-স্বাধীনতা খর্ব করবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের পথ প্রশস্ত করবে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

তিনি বলেন,মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সরকারি ভাষ্যের বাইরে আলোচনা ও গবেষণাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত করবে।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক আজ গণমাধ্যমে প্রদত্ত বিবৃতিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রস্তাবিত খসড়া সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন এই আইন একদিকে যেমন নাগরিকদের সংবিধান স্বীকৃত বাক-স্বাধীনতা খর্ব করবে, আর অন্যদিকে ভিন্নমত ও রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের পথ আরো প্রশস্ত করবে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার পরিবর্তে আইনের ধারা-উপধারায় কেবল অসংখ্য ধরনের শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে,যা বিদ্যমান সংবিধান ও আইনের সাথে সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, খসড়াটি আইনে পরিণত হলে মুক্তিযুদ্ধ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়াবলী সম্পর্কে সরকারি দলের বয়ান ও ভাষ্যের বাইরে কোন আলোচনা ও গবেষণাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।

তাছাড়া নতুন নতুন আইন ও শাস্তির বিধান যুক্ত করে ভাবমূর্তি রক্ষা ও মানহানির মত সমস্যাসমূহের সমাধান করা সম্ভব নয়।

বিবৃতিতে দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সম্মান রক্ষায় আইন প্রণয়নকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ হিসাবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অর্জন ও গৌরবগাঁথা এত বিশাল যে আইন করে তার সম্মান নিশ্চিত করার দরকার নেই। এই ধরনের আইনে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে বরং ছোট করা হবে।

বিবৃতিতে তিনি অতিউৎসাহীদের তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, যথেষ্ট সতর্কতার সাথে ‘সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্ট’ না হলে এই আইন নির্যাতন ও নিবর্তনমূলক আইন হিসাবে বিবেচিত হবে এবং আখেরে তা সরকারের জন্যেও বুমেরাং হতে পারে।

তাছাড়া ক্ষমতাসীন দল যে একসময় বিরোধী দল হতে পারে আইন প্রণয়নের সময় সেটাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

এসএম