বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন দলীয় নেতাকর্মীদের বলেছেন,সরকার এবং পুলিশের ভয়ে মাঠে নামতে না পারলে দল থেকে সরে দাঁড়ান। 

খন্দকার মাহবুব বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘‘আপনারা যদি পুলিশকে ভয় করেন, সরকারকে ভয় করেন তবে দল থেকে সরে দাঁড়ান। কারণ দেশের মহা সংকটকালীন সময়ে আপনারা ঘুমিয়ে থাকবেন, আরাম করবেন, পদ রাখবেন এটা হবে না। মাঠে না নামতে পারলে পদত্যাগ করুন।

শুক্রবার দুপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৫ উপলক্ষ্যে গণতন্ত্র-ভোটাধিকার-আইনের শাসন-মানবাধীকার ও বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন আপনার জন্য একটা সুযোগ। যদি ভাল চান তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। জনগণ ভোট দিতে চায়, তাদের স্বাধীন ভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।

প্রধান অথিতির বক্তব্যে খন্দকার মাহবুব বলেন, সিটি নির্বাচন আমাদের দাবি ছিল আরো আগে দেয়ার, কিন্তু দিলেন অনেক পরে, আপনি মনে করেছিলেন বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ নিবে না। যদি আপনি তাই মনে করে থাকেন তাহলে ভুল মনে করেছেন।

খন্দকার মাহবুব বলেন, দেশের মানুষ আজ পরাধীন। তারা ভেবেছিল ১৬ কোটি মানুষকে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা স্থায়ী করবে। কিন্তু তাদের সে ধারণা ভৃল। অতীতে কোন সৈরশাসক ঠিকে থাকতে পারেনি, আপনিও পারবেন না।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছিলেন- বিএনপির আর আন্দোলন করার ক্ষমতা নেই, তারা গর্তে আত্মগোপন করেছে, কিন্তু আজ যখন গণতন্ত্র-বাকস্বাধীনতাসহ মানুষের বাঁচার অধিকারের জন্য বিএনপি আন্দোলন করছে তখন আপনারা সেই আন্দোলনকে সন্ত্রাসী-জঙ্গীবাদী আন্দোলরে নামে জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

খন্দকার মাহবুব বলেন, বেগম জিয়া ক্ষমতা চান না, তিনি গণমানুষের মুক্তি চান, ভোটের অধিকার চান এবং এজন্য তিনি আন্দোলন করছেন।

তিনি আরো বলেন, আপনি একজন ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্য, আপনি জানেন আপনার আশপাশ কারা ঘিরে ধরেছে, তারাই শেষে আপনাকে ধ্বংস করবে।

পেশাজীবী নেতা রুহুল আমিন গাজী বলেন, আজ মানুষের কথা বলার অধীকার নেই, খুন-গুম হত্যা চালিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকারকে কেড়ে নেয়া যাবে না। সালাহ উদ্দিনের কি অপরাধ ছিল, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে কথা বলার অধিকার তার আছে, কিসের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হল। তাকে অতি সত্তর আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিতে হবে।

গুলশান কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা পতাকা তুলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ দেয়নি, সেই সংবাদ আসেনি আসল ভিন্ন খবর, মিডিয়ার স্বাধীনতা হরণের কারণেই এরকম হচ্ছে।

আলোচনা সভায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এমট্যাব) এমট্যাব এর সভাপতি বিপ্লব উজ্জামান বিপ্লবের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমট্যাব এর উপদেষ্টা নাসির আহমেদ রতন, অ্যাডভোকেট সানাইল্লাহ মিয়া প্রমুখ।

এমএ/ এআর