একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে হিসেব-নিকেশে ব্যস্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক দলগুলো। নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর বাকি থাকলেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন জোট নেতারা। এরই অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের আগে জোটের শরিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন।
যদিও আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান খোলাসা করেনি বিএনপি। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিতে অনড় অবস্থানে আছে দলটি। তবে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে ‘বির্তক’ জিইয়ে রেখে ভেতরে ভেতরে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ ‘চূড়ান্ত’ করা হয়েছে, সময় মত তা প্রকাশ করতে চায় বিএনপি নেতারা।
২০-দলীয় জোট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সাথে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। তবে মনোনয়ন পেতে জোট নেতাদের কেউ কেউ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও লন্ডনে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। এছাড়া নিজ নিজ এলাকায় প্রচার- প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।
বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলমান পরিস্থিতিতে বিএনপি সহায়ক সরকারের দাবি আদায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দাবি আদায় হলে জোট শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে শুধু বিজয়ী হওয়ার মতো আসনেই কেবল জোটের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।
জানা যায়, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে ৩১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিকে (বিজেপি) ৭টি এবং ইসলামী ঐক্যজোটকে ৬টি আসন বরাদ্দ দেয় বিএনপি। নবম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতকে ৩৫টি, বিজেপিকে দুটি, ইসলামী ঐক্যজোটকে দুটি এবং জমিয়তকে দুটিসহ শরিকদের মোট ৪১টি আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি।
জোট নেতাদের দাবি, সরকারের নানা প্রলোভন সত্ত্বেও জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার আহ্বানে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকেছেন জোটের শরিক দলগুলো। তাই একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বণ্টনের ক্ষেত্রে তারা সর্বোচ্চ মূল্যায়ন পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
২০-দলীয় জোটের একাধিক নেতা প্রতিবেদককে জানান, জোট শরিকদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি ড. অলি আহমদ (চট্টগ্রাম-১৩), তার দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান (কুমিল্লা-৭), শাহাদাৎ হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১), আব্দুল করিম আব্বাসী (নেত্রকোনা-১) আসনে নির্বাচনী প্রস্ততি নিচ্ছেন।
বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১), জমিয়তের নির্বাহী সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস (যশোর-৫), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর বিক্রম (চট্টগ্রাম-৫), পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান (পাবনা-১), বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি (নীলফামারী-১), ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া (নরসিংদী-৩), জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী (গাইবান্ধা-৩), জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার (পিরোজপুর-১), জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিঙ্কন (কুষ্টিয়া-২), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (নড়াইল-২), খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের (হবিগঞ্জ-৪), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান খান (কিশোরগঞ্জ-৫), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা (পাবনা-২), জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মহিউদ্দিন ইকরাম (কুমিল্লা-৬), লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (পিরোজপুর-২), ন্যাপ ভাসানীর অ্যাডভোকেট আজাহারুল ইসলাম (গাইবান্ধা-৫), জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুতে তার সহধর্মিনী অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান (দিনাজপুর-৩), তার কন্যা জাগপার সহসভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (পঞ্চগড়-২), দলের মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান (বগুড়া-১) আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জোট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত বিগত নির্বাচনে ৩৫টি আসনে নির্বাচন করলেও আগামীতে এই আসন সংখ্যা কিছু বাড়তে পারে। দলের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। সেভাবেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘২০-দলীয় জোট নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে। আশা করি ক্ষমতাসীনরা আমাদের দাবি মেনে নিয়ে সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।’
নড়াইল-২ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন তিনি।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে নির্বাচন করার কথা জানান বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। তিনি বলেন, ‘আমরা জোটের প্রধান শরিক বিএনপির চিন্তা-চেতনার সঙ্গে সহমত পোষণ করি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ভোটার ও প্রার্থীরা কেউই সুবিচার পাবেন না।’
তবে জোটের শরিক দলগুলোর জন্য কতগুলো আসন দেয়া হতে পারে সে ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক কথা হয়নি বলে তিনি জানান।





