নির্বাচনের ফর্মূলা নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ ‘বাস্তবভিত্তিক ও প্রয়োগযোগ্য নয়’; তবে এই রায়ের পর্যবেক্ষণ অংশের অন্তর্নিহিত বিষয়ে বিএনপি আশান্বিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, দেশে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা এ রায়ে প্রকাশ পেয়েছে।’
রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির এই মুখপাত্র।
রিপন বলেন, ‘দেশে যে একটি রাজনৈতিক সংকট বিরাজ করছে তা এই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রকাশ পেয়েছে। যা জনগণের আকাঙ্খা ও মনোভাবেরই বহি:প্রকাশ। তবে এটা বাস্তবায়নযোগ্য নয়।
এরপরও আমরা আশা করবো সরকার বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করবে এবং একইসঙ্গে চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেবে।’
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, দেশে বর্তমানে বিরোধী দলের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছে না। অনেকেই বলার চেষ্টা করেন বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচি এখনও অব্যাহত আছে।
কিন্তু খালেদা জিয়া নিজেই স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, দেশে বিরোধী দলের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছে না। দলের পুনর্গঠনই এই মুহুর্তে বিএনপি অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
রিপন বলেন, বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি না চললেও সরকারের অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। সরকার ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে। তারা ভেতরে ভেতরে ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ছে।
‘দেশে সর্বত্র খাই খাই অবস্থা বিরাজ করছে’এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবকিছু চেটেপুটে খেতে চায়। এজন্য শাসক দলের ইনফাইটিং-এ প্রতিনিয়ত নিজেদের নেতাকর্মী মারা যাচ্ছে।
তাই চাটার দল থেকে বের হতে সরকার ও আওয়ামী লীগের মতো একটি পুরনো দলকে বিএনপি সহযোগিতা করতে চায়।
এক প্রশ্নের জবাবে রিপন বলেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে বলে আমরা শুনিনি। কারো জন্মদিন পালন একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়।
তবে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) কোনোদিন নিজের জন্মদিন ঘটা করে পালন করেননি। তিনি এর পক্ষপাতি নন। তবে নেতাকর্মীদের আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি এ আয়োজনে অংশ নিয়ে থাকেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জোহা, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-সম্পাদক জন গোমেজ, সহ-দপ্তর আসাদুল করিম শাহীন, সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খান, লায়লা বেগম প্রমুখ।
এমএইচ/এসএইচ





