সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচী সারা দেশের মত রাজধানীতেও সর্বাত্মকভাবে সফল করায় সকল স্তরের নগরবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
মহানগরী আমীর বলেন, সরকার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতে ও ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্যই দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোগে ধ্বংস ধ্বংশ করেছে।
ধ্বংশ করা হয়েছে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার জন্যই নির্বাচনকালীন সময়ে কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। নিজেদের ক্ষমতাকে নিরাপদ ও নিষ্কন্টন করতে তৈরী করা হচ্ছে নানান ধরনের কালাকানুন।
সরকার গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ করার জন্যই কথিত গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এ সরকারের আমলে কয়েকটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলসহ সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ করা হচ্ছে। সরকারের ক্ষমতা কেন্দ্রীক অপরাজনীতির কারণেই তারা মনের মাধুরী মিশিয়ে সংবিধানকে অনাকাঙ্খিতভাবে কাটা ছেড়া করছে।
মূলত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্রের পবিত্র সংবিধানকে দলীয় ইস্তেহারে পরিণত করেছে। কিন্তু এতেও তারা আস্বস্ত হতে পারে নি।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুশাসন অঙ্গাঅঙ্গিভারে জড়িত। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে জনগণের শেষ ভরসাস্থল বিচারবিভাগকে নিলর্জ্জভাবে দলীয়করণ করে ফেলেছে।
মূলত সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয় বরং তারা বিচার বিভার বিভাগকে কুক্ষিগত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা বিচার বিভাগের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীকরার দুরভিসন্ধি ও ষড়যন্ত্র থেকেই অবৈধ ও অনির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে অভিশংসন বিল পাশ করেছে।
তারা বিচার বিভাগের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও বিচারকদের উপর অবৈধ প্রভাব ব্স্তিার করে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চায়। মূলত বর্তমান সংসদের এই ধরের বিল পাশ করার কোন নৈতিক অধিকারই নেই।
এই বিল পাশের মাধ্যমে সরকারের ফ্যাসীবাদী, স্বৈরতান্ত্রিক ও বাকশালী মানসিকতার পরিচয় বহন করে। তিনি সরকারকে গণবিরোধীতা পরিহার করে অবিলম্বে গৃহীত অভিশংসন আইন বাতিলের আহবান জানান। অন্যথায় জনগণ রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে বিচারবিভাগের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করবে।
তিনি আরও বলেন, সচেতন জনতা দেশে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছে। তারা কোন ভাবেই এই জুলুমবাজ ও ফ্যাসীবাদী সরকারকে ছাড় দেবে না।
তারা রাজপথের দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমেই গণদাবী আদায় করবে। জনগণ সকাল-সন্ধ্যার হরতাল কর্মসূচী সর্বাত্মকভাবে সফল করে প্রমাণ করেছে তারা আওয়ামী ফ্যাসীবাদীদের আর একমহুর্তও ক্ষমতায় দেখতে চায় না বরং বিচার বিভাগ ও আদালতের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় রাজপথের আন্দোলন তীব্র হতে তীব্র করতে চায়।
কিন্তু জুলুমবাজ ও বাকশালী সরকার জনগণের শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচীতে বাধা প্রদান করেছে। তারা জনতার উপর পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা জনতার উপর হামলা, লাঠিচার্জ, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ, নির্বিচারে গুলীবর্ষণ ও অকারণে গ্রেফতার করেছে।
গতকাল রাজধানীতে জামায়াতের হরতাল চলাকালে তেজগাঁও শিল্পঞ্চলে পুলশি মিছিলে হামলা চালিয়ে ৮ জনকে গুরুতর আহত করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় পল্টন থানা জামায়াতের উদ্যোগে রাজধানীর নাইটিংগেল মোড়ে মিছিল বের করলে পুলিশ পুলিশ বেপরোয়া টিয়ারসেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও গুলীবর্ষণ করে।
আজ হরতালের সমর্থনে মিরপুরে মিছিল বের করলে পুলিশ বিনা উস্কানীতে হামলা চালায় এবং ২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। হরতালের সমর্থনে গুলশানে মিছিল বের করা হলে একই ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ সেখান থেকে গ্রেফতার করে ২ জনকে। ধানমন্ডিতে নেতাকর্মীরা পিকেটিং এ অংশ নিলে পুলিশে হামলার শিকার হয়েছেন।
পুলিশ সেখান থেকে ৭ জনকে গ্রেফতার করছে। কিন্তু সরকারের শত বাধা-প্রতিবন্ধকতা ও জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা করে জনগণ সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল ঢাকা মহানগরীতেও সর্বাত্মকভাবে সফল করেছে।
তিনি হরতাল কর্মসূচীতে বাধা, হামলা, গুলীবর্ষণ ও গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান, গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেন এবং হরতাল কর্মসূচী সর্বাত্মকভাবে সফল করায় নগরবাসীর প্রতি অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানান।
ঢাকা, ২২ সেপ্টম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





