‘সরকারের চেইন অব কমান্ড ভেঙে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা অবনতির সব দায়দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ এমনটাই মন্তব্য করেছেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের সব সেক্টরের দায়িত্বে থাকা অফিসাররা সরকারের অবৈধ আদেশ মানছেন না। ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন কর্মসূচিতে সরকার কোনঠাসা হয়ে গেছে, বিধায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাশকতা দমানোর সব দায় নিজের ঘাড়ে তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।’
হরতাল-অবরোধের সমর্থনে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে সুপ্রিমকোর্ট বার ভবনের নিচ তলায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
খোকন বলেন, ‘পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বুধবার তেজগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে চলমান সহিংসতা যে কোনো উপায়ে দমন করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্দ্বিধায় যে কোনো উপায় অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে নিজে সবকিছুর দায়দায়িত্ব নেবেন বলেও অভয় দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন- এখানে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নাই, কোনো চিন্তা নাই। যা কিছু হোক সে দায়িত্ব আমি নেবো।’ প্রধানমন্ত্রীর এ রকম ঘোষণার সমালোচনা করেন ব্যারিস্টার খোকন।
নিম্ন আদালতের বিচারকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা (বিচারক) সরকারের কথায় প্রভাবিত হয়ে রায় দেবেন না। আপনাদের মনে রাখা উচিৎ আপনারা বিচারক। আপনাদের কাছে সবাই সুষ্ঠু বিচার আশা করে। কাজেই সরকারের প্রতি দুর্বল হয়ে বিচার করবেন না। কোনো বিচারক যদি মনে করেন আমি একটি নির্দিষ্ট দলের, তাহলে তিনি সঠিক বিচার করতে পারবেন না।’
সমাবেশ শেষে বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি সমবেদনা জানাতে একটি শোক র্যালি বের করেন। প্রায় একশ আইনজীবীর এ শোক র্যালিতে নেতৃত্ব দেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবেদ রেজা, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, শরীফ ইউ আহমেদ, ড. আরিফা জেসমিন নাহিন, হোসনে আরা মুন্নি প্রমুখ।
শোক র্যালিটি বার ভবনের নিচ থেকে শুরু হয়ে হাইকোর্টের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
জেআই





