বিএনপি জোটে জামায়াতকে রাখা না-রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চায় না সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এটি রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার কৌশল এবং এর পেছনে নতুন ষড়যন্ত্র আছে—এমনটাও মনে করছে তারা।

আওয়ামী লীগ মনে করে, বাহ্যিকভাবে জামায়াতকে ছাড়ার ঘোষণা দিলেও ভেতরে ভেতরে একটা সম্পর্ক থাকবে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে।
আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে এই মনোভাব জানা গেছে। নেতারা মনে করেন, বিএনপি জোটে জামায়াতের থাকা না-থাকার বিষয়টি রাজনীতিতে এখনো একটা ‘কৌশলগত ধারণাতেই’ সীমাবদ্ধ আছে।

বিষয়টির আরও গভীর ও বিস্তৃত বিশ্লেষণের ব্যাপার আছে। এখনই কোনো সিদ্ধান্তে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, ‘বিএনপি জামায়াতকে ছেড়ে দেবে, এটা আমরা বিশ্বাস করি না। তাই অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের কথায় গুরুত্ব দিচ্ছি না। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রকাশ্যে ঘোষণা দিলে দলীয়ভাবে বসে আমরাও সিদ্ধান্ত নেব।’


একজন মন্ত্রী ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপির ভেতরে চলছে হাজারো সন্দেহ-অবিশ্বাস। দলের নেতাদের একটা বড় অংশ মনে করে, জামায়াতের জন্য দেশে-বিদেশে তাদের বদনাম হচ্ছে। তাদের দূরে ঠেলে দিলেই দলটির লাভ।

আরেকটি অংশ আবার জামায়াতকে ত্যাগ করার পক্ষের নেতাদের সরকারের ‘চর’ মনে করে। আর খালেদা জিয়া-তারেক রহমান হিসাব কষছেন, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তাঁদের দুজনের অবস্থান কোথায়? তাঁরা কি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবেন, না আন্দোলনের জন্য—সেটাও নিশ্চয় তাঁদের ভাবনায় আছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতকে বিএনপি জোট থেকে পুরোপুরি বের করে দেওয়া কঠিনই হবে।
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির পক্ষে জামায়াতকে ছাড়া সম্ভব হবে না। এখন যা হচ্ছে, তা শুধু রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার কৌশল।

আর জামায়াতকে সাময়িক আড়াল করলেই তো বিএনপির সব পাপ মুছে যাবে না। তাদের নিয়ে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, এর হিসাব দিতে হবে জনগণকে।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিএনপির নতুন এই কৌশলের মূলে দুটি বিষয় রয়েছে। এক, তারা জামায়াতকে দূরে ঠেলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বিকল্পধারার মতো দলগুলোকে কাছে নিতে চায়। দুই, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যেসব রাষ্ট্র মাথা ঘামায়, তাদের সন্তুষ্ট করা।
আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতকে বাদ দেওয়ার কথা বলে আসছে। বিদেশিরাও একই কথা বলেছে। বিদেশিদের এই চাপটা আওয়ামী লীগের জন্য সাপে বর হয়ে এসেছিল। এ জন্যই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ থাকলেও সরকার সেদিকে যায়নি।

বিএনপি তাদের জোট থেকে জামায়াতকে বের করে দিলে নিষিদ্ধের বিষয়টি আবারও জোরালো হবে। অন্যরাও চারদিক থেকে জামায়াত নিষিদ্ধের আওয়াজ তুলবে। সেটা করতে সরকার কতটা প্রস্তুত আছে, সেটা তর্কসাপেক্ষ ব্যাপার।

এমবিএইচ