শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে সংরক্ষিত (নওগাঁ) আসনের এমপি সনজীদা খাতুনকে জামায়াতের এজেন্ট বলেছেন শ্যামপুর-কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের নেতারা।
শ্যামপুর বাজারে শ্যামপুর-কদমতলী থানা জাতীয় পার্টি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে আওয়ামী মঙ্গলবার বিকেলে সনজীদা খাতুনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন। জাতীয় পার্টির (জাপা) এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার কার্যালয়ে সনজীদা সমর্থক-কর্মীদের হামলার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে থেকে শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার আওয়ামী লীগ নেতারা সনজীদা খাতুনের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করারও ঘোষণা দেন।
শ্যামপুর-কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘জাপা ও আওয়ামী লীগের ঐক্যের কারণেই আমরা ক্ষমতায়। কিন্তু সংরক্ষিত আসনের এমপি সনজীদা খাতুন বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছে। তাকে আমাদের প্রতিহত করতেই হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি সভাপতি আর সনজীদা আমার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৮ সালে এমপি হয়ে তিনি এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেই। তার সঙ্গে রয়েছে জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। তিনি জামায়াতের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।’
শ্যামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও শ্যামপুর-কদমতলি থানার সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান সাইজুল বলেন, ‘২৩ বছর জামায়াত-বিএনপির অন্ধকারে ছিল শ্যামপুর আর পাঁচ বছর সনজীদার অন্ধকারে ছিল। শ্যামপুর এখন আলোকিত। প্রধানমন্ত্রী সনজীদাকে তার অপকর্মের জন্য নওগাঁর দায়িত্ব দিয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপি করেছেন। তার কোনো অধিকার নেই শ্যামপুরে রাজনীতির নামে সন্ত্রাস করার।’
শ্যামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল্লাহ বলেন, ‘সনজীদা লাশ চায়। জামায়াত যেমন লাশের রাজনীতি করে। সনজীদা তেমন লাশের রাজনীতির মাধ্যমে শ্যামপুরের উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করতে চায়।’
শ্যামপুর থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা সাহিদা বেগম বলেন, ‘ঝাড়ু মিছিলের মাধ্যমে সনজীদাকে শ্যামপুর-কদমতলি থেকে বিদায় করা হবে।’
শ্যামপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ইউপি মেম্বার সুলতানা আহমেদ লিপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।
বক্তব্য রাখেন ৫১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী হাবিবুর রহমান হাবু, ৫২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা নাসিম মিয়া, ৫৪নং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, মহানগর জাপা নেতা শারফুদ্দিন শিপু, কদমতলী জাপার আহ্বায়ক শামসুজ্জামান কাজল, শ্যামপুর থানার জাতীয় পার্টির সভাপতি কাওসার আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম মোল্লা, কদমতলী থানা জাপার সদস্য সচিব শেখ মাসুক রহমান, মহানগর নেতা সুজন দে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে বিশ্বাস করে না। জাতীয় পার্টির রাজনীতি উন্নয়ন-প্রগতির। গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে ঐকমত্যের সরকারে জাপা অংশীদার হয়েছে। কোনো হুমকি-ধামকি রক্তচক্ষু প্রদর্শন আর সন্ত্রাস করে আমাদের শান্তি আর প্রগতির ধারাকে কেউ থামাতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, আজ থেকে এ এলাকায় সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি মাদকব্যবসা অস্ত্রবাজি, খুনোখুনির রাজনীতি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, অন্যান্য রাজনৈতিক দল সর্বোপরি এলাকার সকল জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের স্থান আমার নির্বাচনী এলাকা শ্যামপুর-কদমতলীর মাটিতে হবে না।’
ঢাকা-৪ শ্যামপুর-কদমতলি আসনের সাবেক এমপি সনজীদা খাতুনের কর্মীরা গত ১০ জুন শ্যামপুরে জাপা এমপি বাবলার কার্যালয়ে হামলা চালায়।
এএইচ





