আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের কয়েক মন্ত্রীকে ‘পরগাছা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ মন্তব্য করে বলেন, ইনুর মতো দুই আনার মন্ত্রীরা হুমকি দিয়ে আসছে, ঈদের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে। আমরা বলতে চাই-পরগাছাদের হুংকারে জাতীয়তাবাদী দল ভয় পায় না।
সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, মিথ্যা অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনকে যদি হয়রানি করা হয়, তা দেশের মানুষ কখনও মেনে নেবে না। দুই আনার মন্ত্রীদের বিচারের জন্য প্রস্তুত হতে তিনি পরামর্শ দেন।

রিপন বলেন, প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে মানুষ স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হতে ঘরমুখো হন। কিন্তু তাদের আসা-যাওয়ার সময় দূর্ঘটনায় অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আমরা জনগণের দল হিসেবে প্রাণহানির পর সরকারকে দোষারোপ ও নিন্দা জানাতে চাই না। সেজন্য আমরা দাবি করছি-মানুষ যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন ও আবার কর্মস্থলে ফিরতে পারে, সেজন্য সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, দূর্ঘটনায় প্রাণহানির পর ম্যাজেস্ট্রেসি তদন্ত কমিটি করে কোনো লাভ নেই। এর চেয়ে দূর্ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যবস্থা করতে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

বিএনপির এই মূখপাত্র দাবী করেন, যে অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালে বিচারের হুংকার দেয়া হচ্ছে; সেই অভিযোগটিই ভিত্তিহীন। বরং নাশকতার সঙ্গে কারা জড়িত, কারা এর হোতা আন্তর্জাতিক তদন্তের মাধ্যমে তদন্ত করলে তা প্রমাণিত হবে।

সরকারের মধ্যে মহল বিশেষ উল্টা-পাল্টা কথা বলে সরকারকে বিব্রত করতে চায় মন্তব্য করে বিএনপির মুখপাত্র এ ব্যাপারে সরকারকে সচেতন থাকারও পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র মন্ত্রীসভায় অনুপস্থিতির কারণে মন্ত্রনালয় থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে অথচ দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী, পচা গমকেলেংকারীর হোতা ও বিদেশে জনগণের টাকা পাচারকারী মন্ত্রীদের বহাল রেখে সরকারের ভাবমুর্তি উজ্জল হবে না, জনগণের কল্যাণও হবে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দুই মেয়াদে সরকার গঠন করার পর বিএনপি ও দেশের সুশীল সমাজ দাবি করেছিল, সরকারের মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব দিতে হবে। কিন্তু আজ পর্যন্তও তা করা হয়নি। পত্র-পত্রিকায় সংবাদ আসে সরকারের মন্ত্রীদের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের। আমরা বিষ্মিত হইনা।

তিনি সরকারে মন্ত্রীরা যে সৎ তা প্রমাণের জন্য সব মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের দাবি জানান।

রিপন অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতারা কারাগারে ধুকে ধুকে মরছেন। তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যহানি ঘটছে। দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন পিন্টু , মহানগর নেতা মোসলেম উদ্দিনসহ অনেক নেতাকর্মী লাশ হয়ে বের হচ্ছেন।

তিনি বলেন, বিরোধীদলের নেতাদের এভাবে অমানবিক নির্যাতন করে সরকারের কি লাভ তা আমাদের বোধগম্য নয়। আওয়ামী লীগ দাবি করে তারা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যেদিয়ে স্বাধীনতায় ভূমিকা রেখেছে।

বিরোধীদলকে এভাবে দমন করে যদি সরকার মনে তারা স্বস্তিতে আছে, তা ভুল। আসলে তারা স্বস্তিতে নেই। আওয়ামী লীগ পুরনো হিসেবে তাদের জানার কথা, এভাবে দমন, জেল-জুলুম করে বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে জনগনের ক্ষোভ স্ফুলিঙ্গ হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।

এমএইচ