রাজধানী ঢাকার বাইরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে শান্তির দাবিতে চলমান অবস্থান কর্মসূচির ৬৫তম রাত অতিবাহিত করছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার সকালে কাদের সিদ্দিকী মতিঝিলের ফুটপাত থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

টাঙ্গাইলের অবস্থান কর্মসূচিতে কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাড়া না দিলে দুই নেত্রীকে বাংলাদেশের জনগণই প্রত্যাখ্যান করবে।’

তিনি বলেন, ‘কেউ হরতাল-অবরোধ না মানলেও বিএনপি নেত্রী প্রায় তিন মাস যাবত অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে এ দেশের কৃষক, শ্রমিক খেটে খাওয়া মানুষের পেটে লাথি পড়েছে। অন্যদিকে দেশের মানুষকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব যার, সেই প্রধানমন্ত্রী মানুষের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। আহত মানুষের সামনে গিয়ে কান্নাকাটি করে দায় থেকে শেখ হাসিনা রেহাই পাবেন না। কোনো বাড়িতে চুরি হলে সবার আগে পাহারাদারকে জবাব দিতে হয়, তেমনি পেট্রোল বোমা যেই মারুক জবাব সরকারকেই দিতে হবে।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘ভাসানী হুজুরের পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণ থেকে আবারও আলোচনায় বসতে এবং অবরোধ প্রত্যাহার করতে দুই নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তারা যদি এরপরও কর্ণপাত না করেন তাহলে এদেশের মানুষই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।’

শান্তির দাবিতে ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গণের অবস্থান কর্মসূচিতে কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে রয়েছেন ভাসানীর দৌহিত্র হাসরত খান ভাসানী, ভাসানী আদর্শ অনুশীলন পরিষদ ও ভাসানী একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন। তারা ভাসানীর মাজারে কাদের সিদ্দিকীকে স্বাগত জানান।

কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আরও রয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, আনিসুর রহমান, টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি এ এইচ এম আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক হাবিবুন্নবী সোহেল, ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম দীপ, যুগ্ম-আহ্বায়ক কাওছার জামান খান, শাহীনুর আলম প্রমুখ।

কাদের সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার রাতে মাওলানা ভাসানীর মাজারে অবস্থান করবেন, মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী শনিবার টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মায়ের কবর জিয়ারত শেষে সখিপুরে অবস্থান করবেন। আগামী ৬ এপ্রিল সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে একদিন অবস্থান করে ৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারতের লক্ষ্যে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওয়ানা করবেন।

এএইচ