দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বাধা দিতেই সরকার বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় চার্জশিট দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার আর কাউকে রাজনীতি করার সুযোগ দিতে চায়না। এজন্যই মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।

সরকার দেশে বিরোধীদলকে রাজনীতি করতে দেবে কি না প্রশ্ন রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, আপনারা এদেশে শুধু আপনাদের ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করতে দেবেন কিনা। নাকি আইন করে বিরোধীদলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করবেন। শেখ হাসিনার আগের আওয়ামী লীগ সরকার অনেক ভাল ছিল। তারা অন্তত একটি ক্ষেত্রে সৎ ছিল। তারা আইন করে দেশে সব বিরোধীদলের রাজনীতি বন্ধ করেছিল। কিন্তু বিনাভোটে, বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করা হাসিনা সরকার কৌশলে বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বাধা সৃষ্টি করছে। আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতি করার সুযোগ চাই। কৌশলে ক্ষমতা দখল করে থাকার সরকারের প্রচেষ্টা জনগণ মানবে না।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি চেয়াারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দল পূনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। দল পূনর্গঠনে যেসব নেতাদের প্রয়োজন তাদের অনেককেই আগে থেকেই গ্রেফতার করে জেলে রাখা হয়েছে, আবার অনেককে নতুন নতুন মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। মূলত: দল পূনর্গঠন ও সুসংহত প্রক্রিয়া বাধা দিতেই নেতাদের গ্রেফতার ও নতুন করে মামলা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ। তার হার্টে বøক ধরা পড়েছে। তরিকুল ইসলাম যাতে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে না পারেন, সেই কারণে মামলাবাজ সরকার কাল্পনিক গল্প তৈরি করে তাকেসহ যশোর বিএনপির সিনিয়র নেতাদেরসহ ৩৪ জনের নামে মামলা দিয়েছে। এ মামলা ইতোমধ্যে যশোর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল হক সাবুসহ ৩ জনকে যার যার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে তরিকুল ইসলাম ও বিএনপি নেতাদের চিকিৎসা অভাবে অকালে মৃত্যুর মুখে ঠেলা দেয়া।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার বিরোধীদলকে ঠেকানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়োগ করেছে। যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। কোনো ধরণের তদন্ত ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ও এই দলের নেতাদের নামে বিদেশী হত্যায় যোগসূত্রের অভিযোগ করছেন। তাতে মনে হয় দেশে কোনো তদন্তকারী ও বিচারের প্রয়োজন হবে না। যাকে ইচ্ছে ধরেই তাকে তারা শাস্তি দিয়ে দেবে। এর ফলে প্রকৃত দূষ্কৃতিকারীদের পার পেয়ে যাওয়ার অবকাশ রয়েছে। আমরা চাই এ প্রক্রিয়া বন্ধ হোক। আমরা চাই দল পূনর্গঠন ও সুসংহত করে দেশের গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার করতে। সেজন্য অবিলম্বে দলের সিনিয়র নেতাদের মুক্তি দাবি করছি।

তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশী হত্যায় বিএনপি নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। অথচ তদন্তের আগেই প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় বিএনপির উপর দায় চাপিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে মনে হচ্ছে দেশে আইন ও বিচারের কোনো প্রয়োজন নেই। যাকে খুশী তাকে ধরে শাস্তি দিলেই হয়।

তিনি বলেন, রংপুরে জাপানী নাগরিক হত্যার পর রংপুর বিএনপি নেতা রাশেদুন্নবী বিপ্লব ও আনিসুর রহমান লাকুকে র‌্যাবের পরিচয়ে অপহরণ করা হয়েছে, তাদের বাড়ি থেকে। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা স্বীকার করেনি। আটক করে স্বীকার না করার মধ্যে এক ধরণের অপরাধ বোধ আছে। আমরা আশংকা করছি-অন্যদের মতো তারাও গুমের শিকার হন কি না? তিনি অবিলম্বে আটকদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ারও দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্মমহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, আব্দুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

এমএইচ