জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ অবশেষে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন।
বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনসটিটিউশনে জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সম্মেলন এ ঘোষনা দেন তিনি।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জাপার মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, জাতীয় ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক মিজানুর রহমানসহ অনেকে।
রওশন এরশাদ বলেন, আগামীতে আর নির্বাচন করব না। পলিটিকস করব না বলে চিন্তা করছি। যতটুকু আমার করার প্রয়োজন ছিল, করে নিয়েছি।
গত ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম দলীয় কোনো অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ও রওশন এরশাদ এক সঙ্গে হলেন।
এরশাদ প্রসঙ্গে রওশন বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আমরা একসঙ্গে আছি। তিনি যখন জেলে ছিলেন, তখন আমি একাই দল পরিচালনা করেছি। অনেকের মনে প্রশ্ন, আমি দলের চেয়ারম্যান হতে চাই। কিন্তু আমি কেন চেয়ারম্যান হতে চাইব?  আমার তো সে অভিজ্ঞতা নেই। নেতৃত্ব আল্লাহ লিপিবদ্ধ করে দেন।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা কপালের লিখন মন্তব্য করে রওশন বলেন, আমরা তো নির্বাচন করবই না। কিন্তু পরিস্থিতি এমন হলো যে, নির্বাচন করতেই হলো।
তিনি বলেন, ধৈর্য্য ও সহনশীলতা না থাকলে নেতৃত্ব দেওয়া যাবে না। সহনশীলতার অভাবে দেশ নেতৃত্ব শূন্য হচ্ছে।
এ সময় ছাত্রসমাজের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য রওশন বলেন, তোমরা আমাদের ভবিষ্যত। তোমরা ভবিষ্যতের নেতা। তাই তোমাদের অনেক কিছু শিখতে হবে। এদেশের রাজনীতিতে তোমাদের অবদান রাখতে হবে। সারা জীবন তো আর তোমরা ছাত্র নেতা থাকবে না। দেশের নেতৃত্বে তোমাদের আসতে হবে। দক্ষতা, শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণে অবদান রাখা তোমাদের শিখতে হবে। দেশের জন্য কাজ করতে হবে। মনের মধ্যে আবেগ রাখতে হবে।
রওশন আরো বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েরা এখন বই পড়ে না। ইন্টারনেট, ফেসবুক এসবে ডুবে থাকে। এ থেকে ফিরে আসতে হবে।
[b]ঢাকা, ২৭ র্মাচ (টাইমনউিজবডি.কম)//এএইচ[/b]