কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে কারাগারে প্রবেশ করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
আজ (বুধবার) দুপুর ২টা ৫০মিনিটে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের কাছে বসানো পুলিশের ব্যারিকেড থেকে পায়ে হেঁটে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার এক মাসের মাথায় তার দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতারা সাক্ষাতের এই সুযোগ পেলেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বিএনপি মহাসচিব’সহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে শেষবার দেখা হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার।
বুধবার (০৭ মার্চ) বিকালে সাক্ষাতের অনুমতি পাওয়ার পর বিএনপি নেতারা প্রথমে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে যান নাজিমউদ্দিন রোডে।
মির্জা ফখরুলের সঙ্গে এই দলে আরও আছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। খালেদা জিয়ারএকান্ত সচিব এম বি এম আবদুস সাত্তারও রয়েছেন প্রতিনিধি দলে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর বোন সেলিনা ইসলাম, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর, স্ত্রী কানিজ ফাতিমা’সহ পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন।
এর বাইরে আইনজীবী হিসেবে- ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুররেজাক খান ও এ জে মোহাম্মদ আলী গত ১০ ফেব্রুয়ারি খালেদার সাক্ষাৎ পেলেও বিএনপির অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের সে সুযোগ হয়নি।
উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকার বকশিবাজার আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এবং তারেক রহমান’সহ বাকি ৫ আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড’সহ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত।
খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। রায়ে তারেক রহমান, শরফুদ্দীন আহমেদ ও মমিনুর রহমানকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
রায়ের দিন আদালত ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়া হয়। রায়ের অনুলিপি ১ হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার।
রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে বেগম জিয়া সেখানেই আছেন।
এমবি





