পহেলা বৈশাখে নারীদের যৌন নির্যাতনের ঘটনায় সরব হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সব মহল। এখন প্রত্যেকটি কথার মাঝে উঠে আসছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার কথা। আর ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
কারণ এ ঘটনায় পুলিশের কাছ থেকে সহায়তা তো পাওয়াই যায়নি বরং পুলিশের ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, পহেলো বৈশাখে টিএসটি বা সোহরাওয়ার্দিতে নারীদের বিবস্ত্র করার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
তাই বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনীতিবিদরা পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং ঘটনার পর থেকে প্রতিদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হচ্ছে বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সবাবেশ, টেলিভিশনের টকশোতে হচ্ছে নানা ধরণের প্রতিক্রিয়া।
গতকাল রাতে শনিবার বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে নারী বিবস্ত্রের ঘটনায় বাঁধা প্রদানকারী ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি লিটন নন্দী বলেন, টিএসসি এলাকাতে মোট ১৯ টি সিসি ক্যামেরা ছিল। ঘটনার ২০ গজ দূরে পুলিশের সাব কন্ট্রোল রুম ছিল। তাহলে যখন এই ঘটনা ঘটে তখন সিসি ক্যামেরা মনিটরিংয়ের দায়িত্বে যে পুলিশ ছিল সে কি করছিল ? তার তো দায়িত্ব ছিল এসব মনিটরিং করা।
তিনি আরো বলেন, যদি পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বানচাল করার জন্য মৌলবাদিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাহলে আপনারা অভিযুক্তদের বিচার করছেন না কেন? এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা কেন গ্রহন করছেন না?
একই টকশো'তে এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশের বেশির ভাগই মোবাইল ফোনে কথা বলায় ব্যস্ত থাকে, তাদেরতো অন্য কোনো দিকে খেয়ালই থাকে না। তাহলে তারা নিরাপত্তা দিবে কি করে।
আর যারা স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি বলে দাবি করেন তারাই পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১২ ঘন্টা কমিয়ে দিচ্ছেন। তাহলে আমরা অন্য কারো কাছে কি বা আশা করবো।
আরেকটি অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিষ্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী বলেন, এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না করে সুষ্ঠু তদন্ত করে এর কঠিন বিচার করা দরকার।
একই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক অপু উকিল বলেন,নববর্ষ উদযাপনকে বিতর্কিত করতে একটা চক্র সংঘবদ্ধভাবে এ কাজ করেছে। যাতে মানুষ এটা পালন না করে।
তিনি আরো বলেন, পুলিশ বলেছে পহেলা বৈশাখ বিকেল ৫ টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার জন্য, তাই বিকেলের পরে কিছু হলে পুলিশকে দোষারোপ করা যাবে না।
ইআর





