সত্য কথা বললে শিরচ্ছেদও হতে পারে, এ রকম অবস্থা দেশে এখন বিরাজমান বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে একটা পুরোপুরিভাবে কর্তৃত্ববাদী বললে ভুল হবে, ফ্যাসিবাদী একটা রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এই বাংলাদেশ। এখানে কথা বলার কোনো স্বাধীনতা তো নেই, কথা বললে শিরোচ্ছেদও হতে পারে এই রকম একটা অবস্থা তৈরি হতে যাচ্ছে।
বুধবার (৩০ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সদ্য কারামুক্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীকে সংবর্ধনা জানাতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রুহুল আমিন গাজী মুক্তি পরিষদ। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও ইউনিটের পক্ষ থেকে কারামুক্ত নেতাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর নিজের কর্মস্থল দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার অফিস থেকে রুহুল আমিন গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাষ্ট্রদ্রোহ ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে দুইটি মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। ১৭ মাস পর গত ২২ মার্চ উচ্চ আদালতের জামিনে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। পৃথিবীর ইতিহাসে একটি শব্দের জন্য দীর্ঘ ১৭ মাস কারাভোগের ঘটনা নিজরবিহীন।
সংগঠনের আহবায়ক ও দৈনিক নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সদস্য সচিব কবি আবদুল হাই শিকদার ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার সম্পাদক এডভোকেট মতিউর রহমান আখন্দ, ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান হাফিজ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, ঢাবি সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক লুৎফুর রহমান, ঢাবি শিক্ষক অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ, মুরসালিন নোমানী, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, সাবেক সহ সভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমেদ, বিএফউএজর সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম, ডিইউজের সহ সভাপতি বাছির জামাল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
জনগনের দুরাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কনসার্টে গান শুনার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে দেখুন না, এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে একদিকে মানুষ টিসিবির ট্রাকের পেছনে লাইন দিচ্ছে। কারণ তার নিত্য প্রয়োজনীয় চাল-ডাল-তেল-লবন কেনার জন্য যে অর্থ সেই অর্থ তার নাই এতো দাম বাড়ছে, হু হু করে দাম বেড়ে যাচ্ছে। আর ওই সময় আমরা কি করছি? আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে বিখ্যাত গায়ককে নিয়ে এসে কনসার্টে তিনি গান শুনছেন, নিজে ভিডিও করছেন এবং সেখানে কোটি কোটি খরচ হচ্ছে। আমাদের ব্যুরোক্রেসটরা তারা ঢাকা-টোরেন্টো ফ্লাইটে যাচ্ছেন, সেই ফ্লাইটে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। তার অর্ধেক হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তারা তাদের পরিবারসহ। এই হচ্ছে দেশের অবস্থা।
মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব হান্ড্রেড’ শীর্ষক কনসার্টের ভারতের অস্কার জয়ী সঙ্গীত তারকা এ আর খানের গান গান। এই কনসার্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামে ছিলেন। এই কনসার্টে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল মাইলস ও জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী মমতাজও অংশ নেন।
ন্যায্যমূল্যের কার্ডেও দলীয়করণ করা হয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের পত্রিকায় আছে এই যে, ন্যায্যমূল্যের কার্ড দিয়েছে তারা। খুব জোর গলায় বলা হচ্ছে এক কোটি কার্ড দেয়া হয়েছে গরীব মানুষদেরকে তারা ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারবে। আমার ঠাকুরগাঁওয়ে যাকে কার্ড দেয়া হয়েছে সে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের মহিলা দলের সভানেত্রী। তার দোতলা বাড়ি, আর তার পাশেই একজন দুঃস্থ গরীব মানুষ, তার একটা চালাও ঠিক মতো বাস করার সেও কোনো কার্ড পায়নি। এই অবস্থা দেশের।
গণমাধ্যম কর্মী আইনের খসড়া বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, এই আইন কারা করবে? সাংবাদিকরা করছে না, আইনটা করছে পার্লামেন্টের সদস্যরা। যারা নির্বাচিত হয়নি, যারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, তারা আইন তৈরি করবে সাংবাদিকদের জন্য, গণমাধ্যমের জন্য। সেটার কি অবস্থা দাঁড়াবে আমরা জানি। আরেকটা হচ্ছে উপাত্ত সংরক্ষন আইন। ৩৪ পৃষ্ঠা খসড়া দিয়েছে। এছাড়া বিটিআরসির মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া কন্ট্রোল করতে পারবে সেই আইনও আনছে তারা । সামগ্রিকভাবে একটা পুরোপুরিভাবে কর্তৃত্ববাদী বললে ভুল হবে, ফ্যাসিবাদী একটা রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এই বাংলাদেশ। এখানে কথা বলার কোনো স্বাধীনতা তো নেই, কথা বললে শিরোচ্ছেদও হতে পারে এই রকম একটা অবস্থা তৈরি হতে যাচ্ছে।
দেশ এখন কারা চালাচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে এখন ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। শালীনতা, সৌজন্যতাবোধ চলে গেছে। যারা চাকর , জনগণের টাকায় যাদের বেতন হয়, তারা এখন দেশের মালিক বরে গেছে। এই কারণেই দেশে আজ এমন দুরাবস্থা।
সদ্য কারামুক্ত সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীকে মজলুম আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান অবস্থায় যখন প্রায় সবাই সরকারের উচ্ছষ্টভোগী হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে সেখানে গাজী সাহেব ছিলেন সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে। দালাল চাটুকারদের বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নিয়েছেন। তিনি যখনই সাংবাদিকের দায়িত্বে ছিলেন তখন তাকে দেখেছি অপোষহীন ভূমিকায় থাকতে। এসব কারণেই তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এই সরকার অনেক সিনিয়র সাংবাদিককে নির্যাতন করেছে। সংগ্রাম সম্পাদক, খুবই বয়স্ক মানুষ আবুল আসাদকে অনেকদিন আটকে রেখেছিল। আরও অনেককে গ্রেফতার করেছে, গুম করেছে, নির্যাতন তো আছেই। তিনি বলেন, আমি সাংবাদিকদের সাথে সব সময় আছি। বিশেস করে রুহুল আমিন গাজীর নেতৃত্বে আগামী দিনে যে আন্দোলন সংগ্রাম হবে, তার সাথে আমার দল বিএনপি ও আমি থাকবো।
সাংবাদিকদের ঐক্য জরুরী প্রয়োজন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা আসছে। এগুলো কিন্তু থাকবে। সবসময়ই যুদ্ধ যখন হয়, সংগ্রাম যখন হয় তখন সেখানে দালাল থাকে, তখন সেখানে বিভিন্ন রকমের মানুষ থাকে যারা বিভিন্ন রকমের ফায়দা নিতে চায়। এগুলোকে কাটিয়ে কিন্তু আমাদেরকে এগুতে হবে, এগুলোকে কাটিয়ে আমাদেরকে ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। সেটা হতে হবে ইস্পাত দৃঢ় ঐক্য। সেই ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশকে মুক্ত করবো, আমরা সাংবাদিকদের লেখার স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো। এটা আমাদেরকে করতে হবে, এটা আমাদের দায়িত্ব। আসুন সেই লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। অবশ্যই আমরা জয়লাভ করবো। সূর্যোদয় হবেই, হতেই হবে। অন্যায়কে ন্যায়ের কাছে পরাজিত হতে হবে।
অনুষ্ঠানে অসুস্থ কারামুক্ত নেতা রুহুল আমিন গাজী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তার মুক্তির জন্য যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বলেন, আমি আপনাদের ভালোবাসায় আবেগ আপ্লুত। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি এই অনুষ্ঠান থেকে বলছি, আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ নেই। অনৈক্য নেই। কেউ যদি বিভেদ সৃষ্টি করতে আসে তাহলে সে আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। আসুন আমরা দেশের গনতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, ন্যায় বিচারের আন্দোলনে স্বোচ্চার হই।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, স্বাধীনতার ৫১তম বছরে আমরা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ১৭ মাস পরে ফিরে পেয়েছি। একজন আইনজীবি হিসেবে বলছি, যে মামলায় বা যে কারণে রুহুল আমিন গাজীকে ১৭ মাস আটক রাখা হয়েছিল, সেটি ১৭ ঘস্টারও কম সময়ে নিষ্পত্তি হবার কথা। আমাদের সিনিয়র যখন উনার মামলার শুনানী করছিলেন তখন সরকার পক্ষ কোনো যুক্তি দিয়ে সেই মামলার বিষয়ে কথা বলতে পারেন নি। তারপরও প্রতিপক্ষ কোনো যুক্তি মানেনি। দুর্ভাগ্য তাকে ১৭ মাস কারাবরণ করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, বিচারলয়ের রায় নিয়ে বাইরে কথা বলা যায়না। এটা আমরা মানতে রাজি আছি, কিন্তু সরকাতো এটা মানেন না। এই বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে লাঠি মিছিল হয়েছে। বিচারকেদের হুমকি দিয়েছে। আজতে ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়ে আমরা যদি বাইরে কথা বলি তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা ইস্যু আনা হবে। আমি বলতে চাই, এই ধরণের একটি রাষ্ট্রে রুহুল আমিন গাজী ১৭ মাস কারাভোগ বা কারাবরণ করেননি তিনি কারা নির্যাতিত হয়েছে।
বিশিষ্ট এ আইনজীবি বলেন, পৃথিবীর সব দেশের আইনে এমনকি বাংলাদেশের আইনেও বলা আছে, কোনো ব্যক্তি যদি অসুস্থ হয় তাকে চিকিৎসার সুযোগ দিতে হয় এবং তাকে চিকিৎসার জন্য জামিনে মুক্তি দিতে হবে। এই ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টে বহু নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত আছে। আমরা এসবই আদালতে উপস্থাপন করেছি। কিন্তু লড়াকু এই বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাগ্যে ট্রিটমেন্টের জন্য জামিনের আদেশ লাভ করতে পরিনি। আমরা কোন দেশে আছি।
মতিউর রহমান আকন্দ আরও বলেন, আজকে গনতন্ত্রকে ঝাটিয়ে বিদায় করে দেয়া হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনকতার কথা বলা হয়। অথচ বিচার বিভাগ আজকে সবচেয়ে বেশী পরাধীন। আজ থেকে ১৫ বছর আগেও বিচারঙ্গনের যে পরিবেশ ছিল সে পরিবেশ আজকে নাই। আইনের শাসন বিদায় নিয়েছে। মানবাধিকার পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে সেটি বলার অপেক্ষা রাখেনা। রমজান মাসকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যেন একটি প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। দেশের মন্ত্রীরা জনগণের সাথে উপহাস করছে। তারা বলছে, জনগণের নাকি ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। যার জন্য দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। উনারা আমাদের পাগল মনে করেছেন।
বাংলাদেশের মানুষকে ঘুম পাড়িয়ে, পত্রিকা গণমাধ্যমকে কিনে দেশের বিশ্বাস মৈৗলিকত্য সংবিধানের বিরুদ্ধে আইন পাশ করা হলো। দেশাবাসী জানলো আরও দুই থেকে তিনদিন পর। সেটি হচ্ছে দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য মাদককে অনুমতি দিয়ে বৈধতা দিয়ে একটি আইন পাশ করা হয়েছে। সরকারি হিসেবে বলা হচ্ছে, দেশে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকার মদ খাওয়া হচ্ছে। আট লক্ষ কোটি টাকা এদেশ থেকে বিদায় দেয়া হয়েছে। এভাবে চলতে দেয়া যায়না। ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের রাজপথে নামতে হবে।
প্রফেসর আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বলেন, সত্য কথা, দেশপ্রেম নিয়ে যারাই কথা বলছেন, তাদের উপর সরকারের খড়গ নেমে আসছে। তারই অংশ হিসেবে রুহুল আমিন গাজীকে কারাবরণ করতে হয়েছে। আজ দেশে গণতন্ত্র নির্বাসিত। ফ্যাসিবাদের রাজত্ব চলছে। বিচারহীনতা চলছে। কথা বলার স্বাধীনতা নেই। এসব নিয়েই স্বোচ্ছার ছিলেন গাজী সাহেব। তাই সরকার তাকে কারাগারে আটক রেখেছিল। তিনি বলেন, আজ পুরো দেশটাই একটা কারাগার। সেখানে যেকোন ব্যক্তি যে কোন সময় গ্রেফতার হতে পারে। গুম হতে পারে। তিনি বলেন, এমন পনিস্থিতি পাকিস্তান আমলেও ছিলনা। আজ বেশির ভাগ লোক সরকারের পদলেহনে ব্যস্ত। গাজী সাহেব ছিলেন তার ব্যতিক্রম। আসুন, বৃহৎ এই করাগার থেকে মুক্তি পেতে রাজপথে আন্দোলন করি।
কামাল উদ্দিন সবুজি বলেন, রুহুল আমিন গাজী বিনাদোষে ১৭ মাস কারাভোগ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের অধিকার আদায়, রুটি রুজির সংগ্রাম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেন, এসবই ছিল তার অপরাধ। এই সরকার তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বন্দি করে রেখেছিল। তিনি বলেন, আসলে এখন পুরো দেশটাই একটি বড় কারাগার। এই কারাগার থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। সেই মুক্ত হবার আন্দোলন আবারো বেগবান হবে গাজী ভাইয়ের নেতৃত্বে।
সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, এই সরকার দেশকে একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এটি এখন একটি পুলিশী রাষ্ট্র। যেখানে কারোরই কোনো নিরাপত্তা নেই। জনগণের নাভিশ^াস দেখা দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তেরেণ যে আন্দোলন চলছে সেই অন্দোলন গাজী ভাইয়ের নেতৃত্বে আরো বেগবান হবে।
কবি হাফিজ হাসান বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে অভিেেযাগ দিয়ে কোনো লাভ নেই। কারণ এরাতো সত্য শুনতে অভ্যস্ত নয়। তিনি বলেন, এই সরকার হচ্ছে একটি স্বৈরশাসক। এদের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়া এতটা সহজ নয়। গাজী ভাইর মুক্তির মধ্য দিয়ে এই স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার হবে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছেন রুহুল আমিন গাজী। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সবার সামনে ছিলেন তিনি। হাজারো নির্যাতন নিপীড়িন করেও তাকে দমানো যায়নি। ভবিষ্যতেও দমানো যাবে না। তিনি বলেন, এই সরকার এমনি এমনি উনাকে ১৭ মাস আটক রাখেনি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সরকারের বিরুদ্ধে তার বজ্রকন্ঠে উচ্চারিত সত্য সমালোচনা বন্ধ করা, সাংবাদিকদের অধিকার আন্দোলন দামিয়ে রাখা। কিন্তু তার মুক্তির মাধ্যমে সরকারের সেই অপইচ্ছার বাস্তবায়ন হয়নি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গাজী ভাইয়ের নেতৃত্বে আবারো রাজপথ উত্তাল হবে।
প্রফেসর ড. লুতফুর রহমান বলেন, রুহুল আমিন গাজী একটি অসম্প্রদায়িক দেশ গড়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তাকেও ১৭ মাস কারাভোগ করতে হয়েছে। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কি হতে পারে। তিনি বলেন, যে চেতনা নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছি আজও কি সেটা বাস্তবায়ন হয়েছে? হয়নি। পুরো দেশ এখন একটি কারাগারে পরিণত হয়েছে। একই অবস্থা হয়েছিল স্বাধীনতার পরে। যেখান থেকে পরে জিয়াউর রহমান দেশকে মুক্ত করেছিলেন। এখন আবার গনতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, দেশের স্বাধীণতা সার্বভেীমত্বের জন্য লড়াই চলছে। গাজী ভাইয়ের নেতৃত্বে সেটি আরও শক্তিশালী হবে।
ইলিয়াছ হোসেন বলেন, আজ একটি প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা প্রয়োজন। সেটি হচ্ছে কেন গাজী ভাই ১৭ মাস কারাগারে ছিলেন। এর কারণ হচ্ছে আমরা সেভাবে রাজপথ উত্তপ্ত করতে পারিনি। আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম না। চারপাশে বেহায়াপনা ও মুনাফেকী আচরণ। সময় এসেছে মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য আবারো রাজপথে নামার।
রফিকুল ইসলাম আজাদ বলেন, আমাদের দুভাগ্য যে, সাংবাদিকরা আজ ঐক্যবদ্ধ নয়। আমাদের মাঝে গ্রæপিং আছে। দুভাগ্য রুহুল আমির গাজীকে দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়েছে। আমাদের দুভাগ্য আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছিনা। তবে অভিজ্ঞ নেতা গাজী ভাই আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। তার নেতৃত্বে সাংবাদিক সমাজ আবার ঐক্যবদ্ধ হবে। একইসাথে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।
মুরসালিন নোমানী বলেন, এই সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে অনেক সাংবাদিককে নির্যাতন করেছে। তারই অংশ হিসেবে গাজী ভাইকে কারাগারে নিয়েছে। আমরা উনার জন্য আন্দোলন করেছি। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। আজো সাগর রুনি হত্যার বিচার হয়নি। আমরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নেয়া সব ধরণের আইন বাতিলের দাবি জানাই।
এলাহি নেওয়াজ খান সাজু বলেন, সাংবাদিকতায় এসে একটি শব্দের জন্য ১৭ মাস কারাবরণ করা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। আসলে এই সরকার মনে করেছিল লড়াকু এই সাংবাদিক নেতাকে কারাগারে আটকে রেখে চলমান আন্দোলনকে দমন করা যাবে। কিন্তু সেটি সম্ভব হবেনা। কারণ আমাদের নেতা আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। তার মুক্তির মাধ্যমে আমরা আবারো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।
আমিরুল ইসলাম কাগজী বলেন, গাজী ভাইয়ের অপরাধ একটাই, তিনি সাংবাদিকদের রুটি রজির আন্দোলনে স্বোচ্চার থাকেন। তার মতো এমন নেতা এখনো আসেনি।
সরদার ফরিদ বলেন, আমরা আনন্দিত উদ্বেলিত। কিন্তু একইসাথে কিছু কিছু ব্যক্তির আচরণে আতংকিত। যারা চায়নি গাজী ভাই মুক্ত হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। এজন্য আমাদের মাঝে ঐক্য দরকার। না হলে অস্থিরতা আবারো বাড়বে। সরকার বিরোধী চলমান আন্দোলন ব্যাহত হবে।
খুরশীদ আলম বলেন, আমাদের কাছে এখনো পরিস্কার নয়, কেন রুহুল আমিন গাজীকে ১৭ মাস ধরে কারাগারে থাকতে হলো। তার অপরাধ কি? মূলত অপরাধ একটাই, তিনি মুক্ত গণমাধ্যমসহ সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।
বাছির জামাল বলেন, এই সরকার মনে করেছিল সাংবাদিকদের নির্যাতন করে, আটক রেখে দমিয়ে রাখা যাবে। এই ধারণা ভুল। সাংবাদিক সমাজ বারবার জেগে উঠেছে। গাজী ভাইয়ের নেতৃত্বে সাংবাদিকরা আবারো রাজপথে স্বোচ্ছার হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, এই দেশে এখন সত্য বলা যায় না। সত্য বললেই ক্ষমতাসীনদের চক্ষশূল হতে হয়। যেটি হয়েছিলেন রুহুল আমিন গাজী। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই আর বেগবান করতে হবে।
এমআর





