সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বুধবার সোয়া সাতটার দিকে লন্ডনে পৌঁছেছেন।হিথ্রো বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানান এবং ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিষিক্ত করেন। বিমানবন্দরে বড় ছেলে তারেক রহমান ফুল দিয়ে মাকে শুভেচ্ছা জানান। দীর্ঘদিন পর মা-ছেলের সাক্ষাতে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছোট ছেলের মৃত্যুর বড় ছেলের সাথে এই প্রথম সাক্ষাত হয়। চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের এ সফরে বেগম খালেদা জিয়া হিথ্রো বিমানবন্দরের সোফিটেল হোটেলে উঠেছেন।

নাতনি জাইমা রহমান, পুত্রবধু ডা. জোবাইদা রহমান ও ছেলে তারেক রহমানও এই হোটেলেই থাকবেন বলে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে। দু’একদিন বিশ্রামের পর খালেদা জিয়ার চোখের ও হাঁটুর চিকিৎসা শুরু হবে বলে সূত্র জানায়। 

ব্যক্তিগত চিকিৎসা ও পারিবারিক বলা হলেও বেগম খালেদা জিয়ার এই সফর বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকার বিরোধী আন্দোলন, নিজ দলের মধ্যে অস্থিরতা নিরসন এবং সরকারের মামলা-নিপিড়নের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সুনির্দিষ্ট নীতি ও কৌশল নির্ধারণ করবেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের জুলাই মাসে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের সময় মা-ছেলের সাক্ষাত হয়। এরপর বাংলাদেশের রাজনীতি ও জিয়া পরিবারের অনেক কিছু হারাতে হয়েছে। বহু নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, গুম হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া প্রিয় ছোট সন্তানকে হারিয়েছেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারী থেকে তিন মাসের অধিককাল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই করেছে বাংলাদেশের মানুষ। ৯৩ দিন বালুর ট্রাক আর পুলিশী অবরোধে ছিলেন গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। 

গত এক বছরে সরকারি বাহিনীর বুলেটে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বহু তাজা প্রাণ যেমন ঝরে গেছে, তেমনি বহু রাজনীতিককে জেল-জুলুমে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দীর্ঘ কারাভোগে এখন অসুস্থ্য। যতটা হারিয়েছে বিএনপি, ঠিক ততোটা নিজেদেরকে গোছানোর সুযোগ পায়নি দলটি। গেল এক বছরে কেবল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন ছাড়া অভ্যন্তরীণ দল গোছানোর কোনো পদক্ষেপের দেখা মেলেনি। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, জাসাসসহ অঙ্গদল ও গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় কোনো উদ্যোগ নেই। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার এবারের লন্ডন সফরে এসব বিষয়ে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে শলাপরামর্শ হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দলটির নেতাকর্মী নির্বিশেষে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষও এই সফরের দিকে তাকিয়ে আছে।

চেয়ারপারসনের সফরে যুক্তরাজ্যের বিএনপিও উজ্জীবীত। প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানাতে বুধবার ভোর রাতে হিথ্রো বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিল শ’শ নেতাকর্মী। বিমানবন্দরের লবি থেকে বেরিয়ে ছেলে তারেক রহমান গাড়ি চালিয়ে মাকে হোটেলে নিয়ে যান। বিমানবন্দরের গেইটের দুই পাশে দাড়িয়ে জনগণের নেত্রীকে ফুল ছিটিয়ে, শ্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান নেতাকর্মীরা।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, সাবেক ছাত্রনেতা নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ, ব্যারিস্টার তারেক বিন আজিজ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সহকারি প্রেস সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল হামিদ চৌধুরী,আবুল কালাম আজাদ, মুজিবুর রহমান মুজিব, আখতার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মামুন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ খান, তাজ উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান জাহিদ, যুবদলের আহবায়ক দেওয়ান মোকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির আহমেদ শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন প্রমুখ। 

এদিকে, ব্যক্তিগত এ সফরে বেগম খালেদা জিয়া দুই সপ্তাহ লন্ডনে থাকবেন। চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন। আসন্ন ঈদুল আজহাও তিনি এখানে করবেন। এটাই হবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে প্রথম ঈদ।  

জেআই