বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম এবং তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

গত ২৭ জুন শনিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে গণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে গণতান্ত্রিক শক্তির নির্বাচন। গণতন্ত্রের অচল মাল সচল করার সুযোগ নেই। যে কারণে খালেদা জিয়ারও সেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুযোগ নেই।’

অপরপক্ষে আজ (৫ জুলাই) রোববার খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে।

নির্বাচনে অংশ নিতে খালেদা জিয়াকে আহবান জানিয়ে নাসিম বলেন, আপনি নির্বাচনে আসুন। নির্বাচনে কাউকে বাইরে রাখতে চাইনা।

অথচ এক সপ্তাহ আগে দেয়া তথ্যমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে এ ধরনের কোন আহবান তো দূরের কথা সেখানে ছিল খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা। তখন ইনু খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘জনগণের কথা শোনার ধৈর্য্য কখনোই তার ছিলো না। উনি এর আগে নির্বাচন করেছেন কিন্তু সংসদের ধার ধারেননি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অগণতান্ত্রিক শক্তিকে সুযোগ দিলে গণতন্ত্রের দুর্যোগ নেমে আসে। গণতন্ত্রে ছোবল মারে। যেমনটি মারছে জামায়াত ইসলাম, যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদীরা।’

ইনু বলেন, ‘সাজানো বাগানে শুকর ছেড়ে দিলে সেই বাগান তছনছ করে দেয়। বর্তমানে গণতন্ত্রে কোন ঘটতি নেই, আছে বিষফোরা। জামায়াত ও জঙ্গিরা হচ্ছে গণতন্ত্রের বিষফোরা। এসব বিষফোরা ছোট-খাটো অপারেশনের মাধ্যমে বাদ দিতে হবে। এতে আমাদের একটু কষ্ট হবে। তবে আমরা এদের কোন ভাবেই ছাড় দিতে পারি না।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে তাতে বাংলাদেশে আর পাকিস্তান মার্কা, সামরিক সরকার মার্কা, জামায়াত মার্কা রাজনীতির সুযোগ নাই। খালেদার রাজনীতির ভবিষ্যত ইতিহাস লেখা হয়েছে। সেটা হলো এই দেশের তার আর রাজনীতি করার সুযোগ নেই। তার স্থান হবে আদালতে। তাকে আদালতের বারান্দায় বিচরণ করতে হবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে ফ্যাশন করে বলেন গণতন্ত্রে ‘ডেফিসিস’ ঘাটতি আছে। গণতন্ত্র মাপবেন কী দিয়ে? বাক, ব্যক্তির কথা বলা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়ে। যদি গণতন্ত্রের মাপকাঠি তাই হয়ে থাকে, তাহলে যারা সমালোচনা করছেন তারাই প্রমাণ করেছেন গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ সুযোগ নিচ্ছেন। গণতন্ত্রে এখানে কোন ঘাটতি নেই। বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণমাধ্যমে এবং স্বাধীন মত প্রকাশের স্বর্ণযুগ পালন করছি।’

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই মন্ত্রীর এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের যেই ঘাটতি রয়েছে তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের সাথে জোটে এসে ক্ষমতায় আসা বাম নেতা ইনু-মেননরা স্বাভাবিকভাবে নির্বাচন হলে ক্ষমতা থেকে যে অনেক দূরে ছিটকে যাবেন সেটা বুঝতে পেরেই তারা চান যে কোনোভাবে একটি একতরফা নির্বাচন। আর সে কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে দূরে রেখে আওয়ামী লীগের সাথে আতাঁত করে কোন না কোন উপায়ে ক্ষমতার ভাগীদার হতেই ইনু এমন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

তবে, আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দল কখনই স্বাভাবিক গণতন্ত্রের পথ পরিহার করে কোন বড় রাজনৈতিক দলকে সরিয়ে রেখে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে অগ্রসর হবে না বলেই মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নাসিমের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেই আভাসই পাওয়া গেল বলেও মনে করেন তারা।

শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চড়ে ফের ক্ষমতায় বসার স্বপ্ন ইনুদের কতটা সফল হবে তা দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে-সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এমনটাই মনে করেন।

কেবি