অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান।
আজ ৭ মার্চ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে দেশের জনগণ অব্যাহতভাবে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
তাছাড়া রোববার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশব্যাপী ৭২ ঘণ্টার হরতাল ও গণমিছিলের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে গিয়ে স্বৈরাচারী সন্ত্রাসী সরকারের পতন ঘটাতে হবে। ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে দেশের জনগণের আন্দোলনের ফলে গোটা দেশ অচল হয়ে পড়েছে। গণবিচ্ছিন্ন সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের আন্দোলন দমনের জন্য সর্বাত্মকভাবে অপচেষ্টা চালিয়েও আন্দোলন দমনে ব্যর্থ হয়েছে।
ব্যর্থ ও অকার্যকর সরকারের হঠকারিতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে দেশের জনগণ অতিষ্ঠ। ব্যর্থ সরকার দেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দেশের জনগণ এ নাজুক অবস্থা থেকে মুক্তি চায়।
দেশের জনগণ আশা করেছিল সরকারের বোধোদয় হবে এবং জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেশকে বর্তমান সংকট থেকে উদ্ধারের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
কিন্তু সরকার শক্তি প্রয়োগ করে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন দমন করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশের জনগণ গণঅবরোধ ও হরতাল পালন করে স্বৈরাচারী সরকারের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছে।
সরকার মানুষ হত্যা, গুম, অপহরণ ও গণগ্রেফতার অভিযান চালিয়ে সারাদেশে সন্ত্রাসী তা-ব সৃষ্টি করে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। সরকারের এ আত্মঘাতী পাঁয়তারার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য আমি দেশের সকল বিবেকবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
স্বৈরাচারী অবৈধ সরকার শক্তির জোরে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার জন্য আজও রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের প্রায় দেড়শত নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন চাঁদপুর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি জনাব রুহুল আমিন ও কক্সবাজার পৌরসভা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আখতার হোসাইন। রাজশাহী মহানগরীর জামায়াত কর্মী জনাব নূরুল ইসলামকে মতিহার থানার পুলিশ গত ৬ মার্চ দুপুরে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
পরে রাত আড়াইটায় মতিহার থানার পুলিশ তাকে কাপাসিয়া এলাকায় নিয়ে নৃশংসভাবে গুলি করে গুরুতরভাবে আহত করে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ ধরনের অমানবিক নৃশংসতা বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
এমকে





