বিএনপির উদ্দেশ্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ বলেছেন, তারা যদি মাঠে না নামত তাহলে একটা কথা ছিল, কিন্তু মাঠে নেমে কিছুক্ষণ খেলে যদি মাঠ ছেড়ে যায় তাহলে শেষ পর্যন্ত যারা মাঠে ছিল খেলা তাদের পক্ষেই যাবে। পুরো নির্বাচনে না থেকে কিভাবে বলতে পারবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, না সুষ্ঠু হয়নি।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত ১১তম শাহাদাৎ বার্ষিকি উপলক্ষে ‘সন্ত্রাস দমন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা র্শীষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না আসার ভূলের খেসারত সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এখন তারা সিটি নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে শক্তিশালি দেখে ৮ ঘণ্টার খেলা ৩ঘণ্টা খেলে পালিয়ে গিয়ে তারা মাঠ এবং আম্পারের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে।

তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে কলকাতায়ও নির্বাচন হয়েছে, সেখানে আমরা দেখেছি বিরোধী দলের নেতা রুপা গাঙ্গুলি ধাওয়া খেয়ে একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের তিন সিটি নির্বাচনে সে রকম কোন ঘটনা ঘটেনি। তার চেয়ে অনেক ভাল সিটি নির্বাচন আমাদের দেশে হয়েছে।

ড.হাছান মাহমুদ বলেন, আহসান উল্লাহর মত একজন ত্যাগি নেতা আজ বড় প্রয়োজন এদেশে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত সেদিন তাকে হত্যা করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিল। আর বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যে পরিবারটি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হন, সে পরিবারটি জিয়া পরিবার। জিয়া যতদিন ক্ষমতায় ছিলেন, ততদিন ঢাকা শহরে কারফিউ ছিল। শত শত নয় তিনি হাজার হাজার সৈন্যবাহিনীকে হত্যা করেছিল।

তিনি বলেন, আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যার পর তৎকালিন বিরোধী দল সংসদে শোক প্রস্তাব আনলে বিএনপি তার বিরোধীতা করে। তারা শুধু আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করেনি, শাহ এসএম কিবরিয়াসহ আরো অনেককে সে সময় হত্যা করে।

বেগম খালেদার প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আপনি যদি আবার সেই হিংস্র-হায়েনার মত সাধারণ মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়েন, তাহলে আর ছাড় দেয়া হবে না। বিএনপি-জামায়াত যাতে এই হত্যার রাজনীতি আর করতে না পারে তারও ব্যবস্থা করা হবে।

আলোচনা সভায় অ্যাড. আব্দুল হান্নান মিয়ার সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, শ্রম নেতা হাবিবুর রহমান সিরাজ, সাবেক সংসদ সদস্য গাজী মোজাম্মেল হক, বেনজির আহমেদ সেলিম, ফজলুর রহমান মিয়া প্রমূখ।

এমএ/ এআর