বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে যাবার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা ছাড়া পুলিশকে খালেদা জিয়ার কর্মসূচিতে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ না করার কথা বলা হয়েছে উর্দ্ধতন পর্যায় থেকে।
সূত্রমতে, নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা শুধুমাত্র দু’টি ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার কর্মসূচিতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে বিএনপি যদি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক বন্ধ করে কোন জনসভা-পথসভা করে সেক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া বিএনপি কিংবা এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সেক্ষেত্রে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পাঁচ বছর পর বেগম খালেদা জিয়ার চট্টগ্রামে আসা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে নগর ও জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বেগম জিয়ার সফর নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন অধিকাংশ শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএমপির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সরকারের যেসব পর্যায় থেকে লিখিত নির্দেশনা আসে সেগুলো এবার আসেনি। বলা যেতে পারে, সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার কর্মসূচি যাতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে হয় সেক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে।
নগরীর নাসিমন ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে সার্কিট হাউজ পর্যন্ত এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন সিএমপির কোতয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার সার্কিট হাউজে রাতযাপন উপলক্ষে আশপাশের এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দলীয় কার্যালয়সহ পুরো নগরীজুড়ে এক হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া নেতাকর্মীদের সমাগমস্থলে গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকবেন।
জাহাঙ্গীর বলেন, কর্মসূচি যাতে সুন্দরভাবে শেষ হয় সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতা আমরা করব।
ঢাকা থেকে সড়কপথে শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রওনা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া সন্ধ্যা নাগাদ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পৌঁছাবেন। সেখানে রাত কাটিয়ে রোববার বেলা ১১টায় সড়কপথে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে সার্কিট হাউজে রাত কাটিয়ে সোমবার উখিয়ায় বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ বলেন, বিএনপির কর্মসূচিতে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া দরকার পুরোটাই দেব। পুরো কর্মসূচি যাতে সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদভাবে শেষ হয় সেজন্য আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাবার পথে মহাসড়ক বন্ধ করে কোন জনসভা কিংবা পথসভা আমরা করতে দেব না। কোনোভাবে রাস্তা বন্ধ করা যাবে না, এটাই পুলিশের সিদ্ধান্ত।
মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হওয়ার পর গত ২৫ আগস্ট থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ শুরু হয়। সেসময় লন্ডনে অবস্থানকারী বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরেই রোহিঙ্গাদের দেখতে যাবার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
এর আগে ২০১২ সালে সর্বশেষ কক্সবাজারে এসেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
মাছুম/এমবি





