জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজধানীর মতিঝিল থেকে ৮ কোটি টাকা উদ্ধারের মামলায় মিয়া নুরুদ্দীন অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বিকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব -১ এর সদস্যরা। অপু হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নুরুদ্দীন অপু শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। র্যাব - ১ এর উপঅধিনায়ক মেজর ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, নুরুদ্দীন অপু ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গ্রেপ্তারের পর তিনি সেখানেই র্যাবের প্রহরায় চিকিৎসাধীন থাকবেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীর মতিঝিলের সিটি সেন্টার থেকে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা এবং ১০ কোটি টাকার চেকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেন র্যাব সদস্যরা। টাকাগুলো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট কেনার জন্য' দুবাই থেকে বাংলাদেশের পাঠানো হয়েছে বলে সে সময় জানান র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।
র্যাবের ওই অভিযানে কথিত আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কর্পোরেশনের এমডি আলী হায়দার, গুলশানের আমেনা এন্টার প্রাইজের জিএম (এডমিন) জয়নাল আবেদিন ও অফিস সহকারী আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করলেও গ্রেফতাকৃতদের একজন হাওয়া ভবনে কাজ করত বলে উল্লেখ করেন র্যাব মহাপরিচালক। এ ছাড়াও অফিসটি থেকে শরীয়তপুর- ৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী নুরু উদ্দিন অপুর পোস্টার পাওয়া যায়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় টাকা ছড়ানো হতো। সিটি সেন্টারের ২৭ তলায় যেখানে অভিযান চালানো হয়েছে সেখানে ইউনাইটেড কর্পোরেশন ও ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই মাস আগে অফিসটি ভাড়া নেয়। গত দুই মাসে অফিস থেকে ১৫০ কোটি টাকা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। ইউনাইটেড করপোরেশনের কথিত মালিকের গত এক মাসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭৩ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন এবং গত দুই মাসে এক কোটি টাকা দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তের পর ধারণা করা হচ্ছে নির্বাচনকে প্রভাবিত ও প্রশ্নবিদ্ধ এবং পেশীশক্তির মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতেই টাকাগুলো এখান থেকে পাঠানো হচ্ছে।





