কথিত নারী জঙ্গী ধরার নামে রাজধানীর ইডেন কলেজের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল থেকে ৫ জন পর্দানশীন ছাত্রী ও বাড্ডায় ফটোকপি করার সময় ১জন পর্দানশীন ছাত্রীকে গ্রেফতার করার তীব্র নিন্দা এবং গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

এক বিবৃতিতে মহানগরী আমীর বলেন, সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধকে বিশেষভাবে টার্গেট করেছে। তারা ঢালাওভাবে কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্যের বইগুলোকে জিহাদী বই হিসাবে আখ্যা দিয়ে এসবের ধারক, বাহক, সংরক্ষক ও পাঠকদের গ্রেফতার, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলাসহ নানাভাবে হয়রানী করছে।

বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অতর্কিত অভিযান চালিয়ে নিরাপরাধ, নিরীহ ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করছে। সরকারের প্রতিহিংসা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না পর্দানশীন মহিলারাও। সে ধারাবাহিকতায় গতকাল পুলিশ কথিত জঙ্গী ধরার নামে রাজধানীর ইডেন কলেজের শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব হলে অভিযান চালিয়ে ৫ পর্দানশীন ছাত্রীকে গ্রেফতার করেছে।

এছাড়াও রাজধানীর বাড্ডা থেকে ফটোকপি করার সময়ও ১জন পর্দানশীন ছাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যা সরকারের অগণতান্ত্রিক ও চরম ইসলাম বিদ্বেষী মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

তিনি বলেন, পুলিশ যে কোন বাসা বাড়ীতে আভিযান চালিয়ে কুরআন হাদীস সংরক্ষিত পেলে পরিবারের সবাইকে গ্রেপ্তার করে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। দেশে কি কুরআন হাদীস কি নিষিদ্ধ? পর্দানশীন ছাত্রীদের গ্রেফতারের বিষয়ে কথিত জঙ্গীবাদী প্রকাশনা সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হলেও প্রকৃতপক্ষে গ্রেফতারকৃতদের কাছে কোন জঙ্গীবাদী ও উগ্রবাদী চেতনার বই ছিল না। বরং সে সমস্ত বই-পুস্তক জব্ধ করা হয়েছে তার সবগুলোই কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য বিষয়ক। আর বাংলাদেশে কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা নিষিদ্ধ নয় বরং সংবিধানে নাগরিকের স্ব-স্ব ধর্ম পালন, প্রচার ও প্রসার ঘটানোর অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।

দেশে কুরআন হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য গ্রন্থাদি লিখন, পঠন, মুদ্রণ ও বিপননে কোন বাধা নেই। মূলত সরকার নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে কুরআন হাদীস সংরক্ষণের দায়ে গ্রেপ্তার হয়রানী, ধর্মহীন শিক্ষা সিলেবাস প্রণয়ন এবং সরকার কর্তৃক জুমার খোতবা নিয়ন্ত্রন করে দেশকে ক্রমান্বয়ে ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত করছে। যা সরকারের ইসলাম বিদ্বেষ, হঠকারিতা, দায়িত্বহীনতা ও স্বৈরচারী মানসিকতার পরিচয় বহন করে। তিনি জনগণকে সরকারের হটকারী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হতে আহবান জানান।

মাওলানা খান জঙ্গী ধরার নামে মেধাবী ও পর্দানশীন ছাত্রীদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভবিষ্যতে পর্দানশীন মা-বোনদের হয়রানি বন্ধে সংশিষ্ট মহলকে বিরত থাকতে আহবান জানান এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন।

ওএফ