জঙ্গিদমন, টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার তিনযুদ্ধে জয়ী হতে সংবিধানের পক্ষে দৃঢ় ভূমিকা পালনের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সেইসাথে জঙ্গিদমন যুদ্ধের একটি দর্শনগত রূপরেখাও দেন তিনি।

তিনি বলেন, জঙ্গিদমন, টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার এ যুদ্ধে নিরপেক্ষতার কোনো জায়গা নেই।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের সমাপনী দিনে তাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে মন্ত্রীআরো বলেন, দেশ তিনটি যুদ্ধের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র ও জাতির ওপর জঙ্গিদের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে জয়ী হতে জাতীয় চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাসহ সংবিধান নির্দেশিত পথে জেলা প্রশাসকদের দৃঢ় ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিগত বছরের ৯৩ দিনের ‘আগুনযুদ্ধ’ সাহসিকতার সাথে মোকাবিলার জন্য জেলা প্রশাসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে এসময় তাদের সামনে জঙ্গিদমন যুদ্ধের দর্শনগত ধারণা তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী।

রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি জেলা প্রশাসনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হাসানুল হক ইনু বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা হচ্ছে উন্নয়নকে টেকসই করা ও সমাজে সুশাসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত।’

এসময় ‘শেখ হাসিনার দশ উদ্যোগ’ অধ্যয়ন ও বাস্তবায়ন, ক্যাবল টিভি সংযোগে চ্যানেল ক্রমিকে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি ওয়ার্ল্ড এবং সংসদ বিটিভি প্রথমে রাখা নিশ্চিত করা, জঙ্গি নিয়ে তাদের দোসরদের বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন এবং দেশব্যাপী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জাল বেষ্টনের জন্যও জেলা প্রশাসকদের দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

ইনু বলেন, অন্যায়ভাবে জঙ্গিরা যে যুদ্ধ দেশ ও জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে, তা কোনো দল বা জোটের যুদ্ধ নয়, সমগ্র জাতির যুদ্ধ। এতে এক পক্ষে রয়েছে জনগণ ও সরকার এবং আরেক পক্ষে রয়েছে জঙ্গি ও তাদের দোসররা। পুরো জাতি এযুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে, শুধু জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের দোসরদের নাম সে ঐক্যের খাতা থেকে কাটা গেছে। কারণ, জঙ্গিদমন ও জঙ্গি পুণঃউৎপাদন বন্ধে জঙ্গি আর তাদের দোসর উভয়কেই নির্মূল করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৬ জুলাই এবছরের চারদিনব্যাপী যে জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধন করেন, শুক্রবার ছিল তার শেষদিন। এদিন সকালের অধিবেশনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সঞ্চালনায় তথ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার, উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ, যুব ও ক্রীড়া সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ, সংস্কৃতিসচিব আক্তারী মমতাজও নিজ নিজ দপ্তরের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তার বক্তব্যের শেষে ‘গুলশান হত্যাকাণ্ডে নিহত ইতালীয় নাগরিক অন্তঃসত্ত্বা নারী সিমোন মনটির অনাগত শিশু মাইকেলেঞ্জেলো স্মরণে’ কবি তারিক সুজাত রচিত কবিতা ‘জন্মের আগেই আমি মৃত্যুকে করেছি আলিঙ্গন’ আবৃত্তি করে শোনান।

এমবি